| বঙ্গাব্দ

ইসরায়েল সিরিয়ায় দেরা প্রদেশে বিমান হামলা, আসাদ সেনার সামরিক স্থাপনা ধ্বংস

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-03-2025 ইং
  • 4769208 বার পঠিত
ইসরায়েল সিরিয়ায় দেরা প্রদেশে বিমান হামলা, আসাদ সেনার সামরিক স্থাপনা ধ্বংস
ছবির ক্যাপশন: ইসরায়েল সিরিয়ায় দেরা প্রদেশে বিমান হামলা

ইসরায়েলের বিমান হামলা সিরিয়ায়: দেরা প্রদেশে সামরিক স্থাপনায় আক্রমণ

সিরিয়ায় ইসরায়েলের বিমান হামলা, যা গত সোমবার রাতে চালানো হয়েছিল, তা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দেরা প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। এই হামলায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারী সেনাবাহিনীর সামরিক ঘাঁটি এবং অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এই হামলার ফলস্বরূপ তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সোমবার (১০ মার্চ) রাতে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে ১০৩ কিলোমিটার (৬৪ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত দেরার উত্তরে দুটি শহরে বিমান হামলা চালানো হয়। সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সি (সানা) জানিয়েছে যে, এই হামলায় আসাদ সেনার বহু অস্ত্রাগার, কামান এবং সাজোয়াযান ধ্বংস হয়ে গেছে।

হামলার লক্ষ্য ছিল সিরিয়ান সরকারী সেনাবাহিনীর সামরিক ঘাঁটি, যা বহুদিন ধরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। এসব স্থাপনা সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী দখল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল, বিশেষ করে ইসরায়েলের হামলার পর।

দেরা প্রদেশের সামরিক গুরুত্ব

দেরা প্রদেশটি সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি দেশটির এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত এলাকা হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালের সিরিয়ান গৃহযুদ্ধের পর থেকে এই অঞ্চলটি বিভিন্ন সময় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়ে আসছে, বিশেষ করে এমন সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে, যা ইরান এবং সিরিয়ার সরকারের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

এই অঞ্চলে সিরিয়ান সরকারের বাহিনীর উপস্থিতি শক্তিশালী হওয়ায়, সেখানে ইসরায়েলের আক্রমণ একটি বড় কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল এ ধরনের হামলা চালিয়ে সিরিয়ান সরকারের শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে চায়, বিশেষ করে ইরান ও হিজবুল্লাহ’র মতো শক্তির উপস্থিতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে সরকারের সেনাবাহিনী, রুশ এবং ইরানি সমর্থনে এই এলাকাগুলোতে প্রভাব বজায় রেখেছে। ইসরায়েল এই অঞ্চলে হামলা চালিয়ে, সম্ভবত, বিদ্রোহীদের সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি সিরিয়ান সরকারের সামরিক শক্তি দুর্বল করতে চাচ্ছে।

ইসরায়েল এবং সিরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বহুদিন ধরে চলমান। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে একাধিক দেশ সরাসরি জড়িত হয়েছে। ইসরায়েল নিয়মিতভাবে সিরিয়ায় ইরানি বা হিজবুল্লাহ’র উপস্থিতির বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে থাকে। সিরিয়ার প্রতি ইসরায়েলের এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ভবিষ্যত সম্ভাবনা

বর্তমান পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ বা উত্তেজনার দিকে মোড় নিতে পারে। বিশেষ করে, যদি সিরিয়ার সরকার বা তার মিত্ররা এই হামলার প্রতি প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাল্টা আক্রমণ করে, তবে তা পুরো অঞ্চলে বিশাল রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। এই ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে, কারণ এতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির সম্পর্ক এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে।

সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলা এবং দেরা প্রদেশে সামরিক সংঘর্ষের পটভূমি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগের প্রয়োজন। বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ইসরায়েল, সিরিয়া এবং অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency