বহু বছর পর সেনানিবাসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের পুরোনো স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বহু বছর পর নিজের পুরোনো ও স্মৃতিবিজড়িত সেনানিবাস এলাকায় এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগতাড়িত।" সেনানিবাসের চমৎকার পরিবেশ, কঠোর শৃঙ্খলা, সহযোদ্ধাসুলভ বন্ধন এবং সেনা সদস্যদের আন্তরিকতা তাঁর কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী এসে পৌঁছালে তাঁকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নত পেশাদার মান, অনন্য দায়িত্ববোধ এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলাসহ দেশের যেকোনো প্রয়োজনে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর গৌরবময় ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে:
"বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, উচ্চ পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেম নিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতির সেবায় নিয়োজিত থাকবে।"
প্রীতিভোজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইউনিটের সৈনিক লাইন সশরীরে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি ইউনিট প্রাঙ্গণে একটি ফলদ/বনজ গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে (Visitor's Book) নিজের মন্তব্যসহ স্বাক্ষর করেন।
+------------------------------------+--------------------------------------------------+
| সময় ও কর্মযজ্ঞ (Schedule) | প্রধান কার্যক্রমসমূহ (Key Activities) |
+------------------------------------+--------------------------------------------------+
| ১. দুপুর (মধ্যাহ্নভোজ) | অফিসার ও সৈনিকদের প্রীতিভোজে অংশ ও স্মৃতিচারণ। |
| ২. প্রীতিভোজ পরবর্তী সময় | সৈনিক লাইন পরিদর্শন, চারা রোপণ ও পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর।|
| ৩. কর্মসূচির শেষাংশ | যৌথ ফটোসেশন ও সেনা সদস্যদের সাথে জোহরের নামাজ আদায়।|
+------------------------------------+--------------------------------------------------+
ঈদের দিনে সেনাবাহিনীর এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রের ও সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত প্রধান ব্যক্তিবর্গের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান: সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও)।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান: ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের সম্মানিত কমান্ডার।
লে. কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম: ২৫ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার।
ফটোসেশন শেষে কর্মসূচির শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী সেনা সদস্যদের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জোহরের নামাজ আদায় করেন। ঈদের দিনে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের এই সরাসরি উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গভীর উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও সামরিক মনোবল বৃদ্ধিতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করবে।
আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: একজন সচেতন নাগরিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমি মনে করি, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় সশস্ত্র বাহিনীর পাশে রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সশরীরে উপস্থিতি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বার্তা দেয়। দীর্ঘ সময় পর দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী ও সেনা সদস্যদের সাথে এই ঈদ আনন্দ উদযাপন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি সুদৃঢ় বন্ধন ও পারস্পরিক আস্থার প্রতীক। রাষ্ট্রের শান্তি, শৃঙ্খলা এবং যেকোনো জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার প্রতি রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই অকুণ্ঠ স্বীকৃতি ও সম্মান প্রদর্শন আগামী দিনে আমাদের জাতীয় সংহতি ও দেশপ্রেমের চেতনাকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |