সোমবার, ২৫ মে ২০২৬: সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম প্রধান ত্যাগী ও রাজপথের লড়াকু নেতা হিসেবে হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে দলের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাননি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। এমনকি নির্বাচনের পর নতুন সরকারের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কোটাতেও জায়গা হয়নি ছাত্রদলের সাবেক এই ক্যারিশম্যাটিক সভাপতির।
দলের জন্য জীবনের সোনালী সময় বিলিয়ে দেওয়া এই শীর্ষ নেতা কেন কোণঠাসা? কেনই বা এমপি কিংবা মন্ত্রিত্বের রেস থেকে ছিটকে গেলেন? এই সমস্ত সংবেদনশীল ও রাজনৈতিক প্রশ্ন নিয়ে জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের সঙ্গে এক একান্ত ও খোলামেলা সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।
সাক্ষাৎকারে শুরুতেই হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এই মুহূর্তে দলের ভেতরে তাঁর প্রকৃত অবস্থান কী? অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় এই বিএনপি নেতা উত্তর দেন, "আমি এখন আমাদের প্রিয় দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে সার্বক্ষণিক কাজ করছি। দলের হয়ে মাঠপর্যায়ে লড়াই করাই আমার বর্তমান প্রধান রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান।"
নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া এবং মন্ত্রিপরিষদ থেকে বাদ পড়ায় দল তাঁকে কোনোভাবে বঞ্চিত করেছে কিনা—এমন তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে তিনি বেশ উদারভাবে বলেন:
"আমি মূলত আমাদের দলেরই সৃষ্টি। এই রাজনৈতিক দলই আজ আমাকে তৈরি করেছে, সোহেল বানিয়েছে। তাই দল আমাকে যখন যেভাবে রাখবে, যে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেবে, আমি সেটাই করব। উইথ হার্ট অ্যান্ড সোল ($With\ heart\ and\ soul$) আমি নেত্রীর দেওয়া সেই কাজটাই করে যাব। এর বাইরে ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে কী পেলাম বা কী পেলাম না, এটা নিয়ে আসলে আই ডোন্ট কেয়ার ($I\ don't\ care$)। দল যে কাজ দেয়, সেটি করেই আমি সুখী। এর চেয়ে বেশি নিজেকে নিয়ে বা কোনো পদের লোভ নিয়ে আমি কিছু ভাবি না।"
যুগান্তরের পক্ষ থেকে আরেকটি রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে আনা হয় যে—যদি বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পুরোপুরি সক্রিয় থাকা অবস্থায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো, তবে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ বহু ত্যাগী নেতা সহজেই এমপি বা মন্ত্রী হতেন। এই ধারণার সাথে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করে সোহেল বলেন:
দলের দূরদর্শী দৃষ্টিকোণ: "আমি বিষয়টি এভাবে সংকীর্ণভাবে দেখি না। দল সবসময় একই প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে। দল নিশ্চয়ই বিভিন্ন গ্রাউন্ড থেকে তথ্য ও সমীক্ষা সংগ্রহ করেছে, যেখানে হয়তো অন্য কেউ আমার চেয়ে বেটার ক্যান্ডিডেট ($Better\ Candidate$) ছিলেন।"
নির্বাচনের বাস্তব সমীকরণ: "আমাদের বুঝতে হবে, রাজনীতিতে বছরের পর বছর ত্যাগ তিতীক্ষা স্বীকার করা এক জিনিস আর ভোটের মাঠে আসন জেতা সম্পূর্ণ অন্য জিনিস। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যাকে প্রতীক দিলে ওই নির্দিষ্ট আসনটি দলের ঝুলিতে আসার শতভাগ সম্ভাবনা আছে, দল কৌশলগত কারণে তাকেই বেছে নেয়। আমরা যারা মাঠের রাজনীতি করি, তারা এই সমীকরণটি খুব স্বাভাবিক ও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করি। ইটস অলরাইট অ্যান্ড ওকে ($It's\ alright\ and\ okay$)।"
পদ-পদবি ও ক্ষমতার মোহ নিয়ে সমসাময়িক নেতাদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রাজনৈতিক আদর্শ প্রকাশ করেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, "দল জিতলেই আমরা জিতলাম। এখানে ব্যক্তি হিসেবে আমাকে বা অমুককেই পদ পেতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আমি এগুলো নিয়ে এত গভীরে গিয়ে মন খারাপ করি না। এমপি বা মন্ত্রী হলেই সব হয়ে গেল, আমার জীবনের সব মূল্যায়ন হয়ে গেল—কিংবা এমপি না হতে পারলে আমার রাজনৈতিক জীবনের কোনো মূল্যায়নই অবশিষ্ট থাকল না, রাজনীতিকে আমি এভাবে স্থূলভাবে নিই না। মানুষের সেবা করার জন্য এমপি হতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।"
নতুন করে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, সামনের ঢাকার বড় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নাম দলের অন্দরে বেশ জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এই বিষয়ে তাঁর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, "আমার সোজা কথা—দল দলের নিয়ম অনুযায়ী দেখুক। দল যাকে সবচেয়ে যোগ্য মনে করবে তাকেই মনোনয়ন দেবে। জনগণের মধ্যে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা কতখানি, জনগণ তাকে কীভাবে চাচ্ছে বা ওই প্রশাসনিক পদে বসে সে কতটুকু সার্ভিস দিতে পারবে, দেশ ও জনগণের জন্য সেগুলোই তো যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত। এই মাপকাঠিতে দল যদি মনে করে আমাকে দিয়ে কোনো কাজ হবে, তবে আমি অবশ্যই মাঠ কাঁপাব।"
প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed
হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সাক্ষাৎকার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কোটা, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সোহেল, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং বাংলাদেশের সমসাময়িক জাতীয় রাজনীতির এমন নিখুঁত, বস্তুনিষ্ঠ ও সম্পূর্ণ এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |