| বঙ্গাব্দ

শিশু রামিসা হত্যা: ঘাতক সোহেল ও স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-05-2026 ইং
  • 8338 বার পঠিত
শিশু রামিসা হত্যা: ঘাতক সোহেল ও স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল
ছবির ক্যাপশন: রামিসা হত্যা: ঘাতক সোহেল

শিশু রামিসা হত্যা: ঘাতক সোহেল ও স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল

জাতীয় ও অপরাধ ডেস্ক | ২৪ মে, ২০২৬ প্রতিবেদক: বিডিএস বুুলবুল আহমেদ

ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীতে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৮) ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় মূল ঘাতক সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ।

আজ রোববার (২৪ মে, ২০২৬) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে এই অভিযোগপত্রটি জমা দেন।

১. অপরাধে স্ত্রীর সহায়তার প্রমাণ

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, জমা দেওয়া এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগপত্রটি আজই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান চার্জশিটের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে বলেন, দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্ত শেষে মূল ঘাতক সোহেল রানার বিরুদ্ধে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে স্বামীকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সহায়তা করাসহ অপরাধীকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার অভিযোগ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শতভাগ প্রমাণিত হয়েছে। সেই আলোকেই দুজনকে অভিযুক্ত করে এই চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে।

২. লোমহর্ষক সেই হত্যাকাণ্ড ও মামলা

স্মর্তব্য যে, গত ১৯ মে (২০২৬) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষের খাটের নিচ থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরবর্তীতে বাথরুমের একটি বালতি থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। এই লোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনার পরদিন নিহতের পিতা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে প্রতিবেশী মাদকাসক্ত সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে ঘটনাস্থল থেকেই প্রধান আসামির স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে স্বপ্নার দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।

৩. জবানবন্দি ও দ্রুততম বিচার

গ্রেফতারের পর গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত সোহেল রানা বিজ্ঞ বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় শিশু রামিসাকে ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে গলা কেটে হত্যা করার লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। বর্তমানে দুই আসামিই কারাগারে আটক রয়েছে।

আজকে এই চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া রেকর্ড সময়ে শেষ হলো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে যে, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের মাধ্যমে আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এই ঘৃণ্য অপরাধের বিচার কাজ সম্পন্ন করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (Sources):

  1. ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (DMP) প্রসিকিউশন বিভাগ: ২৪ মে, ২০২৬ তারিখে পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান কর্তৃক বিজ্ঞ আদালতে দাখিলকৃত অফিশিয়াল অভিযোগপত্র ও আইনি ডায়েরি।

  2. ঢাকার সিএমএম (CMM) আদালত রেকর্ড: শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার এফআইআর, ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং ২৪ মে আদালতে চার্জশিট উপস্থাপনের প্রাতিষ্ঠানিক নথি।

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ

    আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency