আন্তর্জাতিক ও কূটনীতি ডেস্ক | ২৪ মে, ২০২৬ প্রতিবেদক: বিডিএস বুুলবুল আহমেদ
তেহরান ও ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর ঘোষণার পর, এবার তেহরানের পক্ষ থেকেও অত্যন্ত ইতিবাচক ও শক্তিশালী ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরানের তিন জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারকে (MoU) সম্মত হয়েছে।
অত্যন্ত সংবেদনশীল এই দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যদিও এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বা সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক ও সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি, তবে আজ রোববার (২৪ মে, ২০২৬) ভোরে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।
সেখানে তিনি উল্লেখ করেন:
“ইরান সর্বদা একটি মর্যাদাপূর্ণ কূটনীতির মাধ্যমে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে একটি শক্ত অবস্থান থেকে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
গত মাসের শুরুতে কার্যকর হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর ইরানের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই মন্তব্যকে দুই দেশের মধ্যকার চলমান দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে এবং একটি স্থায়ী ও টেকসই চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তিশালী ও ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পর্দার আড়ালের এই সমঝোতার খসড়া শর্ত অনুযায়ী, ইরান সরকার বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো আন্তর্জাতিক ও বাণিজ্যিক জাহাজকে কোনো প্রকার শুল্ক, ট্রানজিট ফি কিংবা বাধা ছাড়াই অবাধে চলাচলের অনুমতি দেবে।
এর বিনিময়ে মার্কিন প্রশাসনও ইরানের ওপর জারি করা তাদের কঠোর নৌ অবরোধ (Naval Blockade) সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেবে। চুক্তির আওতায় লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সবকটি ফ্রন্টে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার শর্তও যুক্ত রয়েছে, যেখানে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে ইসরায়েলের তুমুল সংঘাত চলছিল।
উল্লেখ্য, গত মাত্র এক সপ্তাহ ধরে যেখানে ওয়াশিংটন ও মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিচ্ছিল (যার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পারিবারিক অনুষ্ঠানও বাতিল করেছিলেন), সেখানে তেহরান মূলত দ্বিমুখী কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছিল। একদিকে তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোদমে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল।
শনিবারের (২৩ মে) নাটকীয় পরিস্থিতির পর আজ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চেয়ে শেষ পর্যন্ত ওভাল অফিস ও তেহরানের কূটনৈতিক পথটিই জয়ী হতে চলেছে। তবে এই সম্ভাব্য চুক্তিটি কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও জলপথ খুলে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে, নাকি এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনীতিতে কোনো স্থায়ী শান্তি আসবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখনো বিস্তর জল্পনা-কল্পনা চলছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (The New York Times): ২৪ মে, ২০২৬ তারিখে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত এক্সক্লুসিভ কূটনৈতিক প্রতিবেদন।
ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: ২৪ মে ২০২৬ তারিখে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদ কর্তৃক প্রকাশিত অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |