| বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে রিপাবলিকানদের অসন্তোষ ও ‘এপিক ফিউরি’ বিতর্ক

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-05-2026 ইং
  • 5143 বার পঠিত
ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে রিপাবলিকানদের অসন্তোষ ও ‘এপিক ফিউরি’ বিতর্ক
ছবির ক্যাপশন: ট্রাম্প

ট্রাম্পের ইরান নীতি ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে গৃহবিবাদ: নিজস্ব দল রিপাবলিকানদের তোপের মুখে হোয়াইট হাউস

রবিবার, ২৪ মে ২০২৬: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং ইরানের মধ্যবর্তী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি বা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে খোদ ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকান পার্টির (Republican Party) কট্টরপন্থী ও শীর্ষ নেতাদের মাঝেই এই চুক্তি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ, ক্ষোভ এবং প্রকাশ্য সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ‘পরমাণু ইস্যু বর্তমান আলোচনার অংশ নয়’—এমন কঠোর বিবৃতির পর ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে মার্কিন সিনেটর ও সাবেক কর্মকর্তাদের এই সমালোচনা আরও জোরালো রূপ নিয়েছে।

১. ওবামা আমলের চুক্তির সাথে তুলনা এবং পম্পেওর কড়া হুঁশিয়ারি

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিআইএ (CIA) প্রধান মাইক পম্পেও এই সম্ভাব্য চুক্তির শর্তগুলোকে সরাসরি ২০১৫ সালের ওবামা প্রশাসনের বিতর্কিত পারমাণবিক চুক্তির (JCPOA) সাথে তুলনা করেছেন। তিনি এই উদ্যোগকে ট্রাম্পের নিজস্ব ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (America First) নীতির পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে বলেন:

"যেসব শর্তের ওপর ভিত্তি করে এই চুক্তি ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা মূলত ওবামা আমলের কর্মকর্তাদের তৈরি পুরনো কৌশলেরই প্রতিফলন। এটি তেহরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (IRGC) পুনরায় অর্থায়ন এবং বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস ও গণবিধ্বংসী অস্ত্র ছড়ানোর লাইসেন্স দেওয়ার শামিল।"

২. ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বিতর্ক

রিপাবলিকানদের ক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)। সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর রজার উইকার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে একটি ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উইকারের মতে, এই রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ-সক্ষমতার যে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছিল, এই যুদ্ধবিরতির ফলে অর্জিত সেই সমস্ত সাফল্য পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। তিনি সরাসরি ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের দায়ী করে বলেন, তারা প্রেসিডেন্টকে এমন একটি অর্থহীন চুক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন যা স্বাক্ষরের কাগজের মূল্যের সমানও নয়।

ট্রাম্পের ইরান নীতি ও রিপাবলিকান শীর্ষ নেতাদের প্রতিক্রিয়া ম্যাট্রিক্স (মে ২০২৬)

মে ২০২৬-এ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং রিপাবলিকান শীর্ষ নেতাদের প্রতিক্রিয়া দুটি প্রধান মেরুতে বিভক্ত। যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের পর তেহরানের সাথে একটি শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছেন, রিপাবলিকান নেতারা এই নরম নীতির ফলে দুর্বলতার বার্তা দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। 
ট্রাম্পের ইরান নীতি ও রিপাবলিকান নেতাদের প্রতিক্রিয়ার ম্যাট্রিক্স:
নীতি ও অবস্থান ডোনাল্ড ট্রাম্প (প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্র)রিপাবলিকান শীর্ষ নেতারা (হাউস ও সিনেট)
মূল লক্ষ্য ও কৌশলইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার শর্তে তেহরানের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছেন।কঠোর সামরিক অবস্থান এবং সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া যেকোনো চুক্তির ঘোর বিরোধী।
সর্বশেষ পদক্ষেপশান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে বড় ধরনের সামরিক হামলারও হুমকি দিয়ে রেখেছেন।ডেমোক্র্যাটদের আনা 'ওয়ার পাওয়ার্স রেজুলেশন' (যুদ্ধক্ষমতা সীমিতকরণ প্রস্তাব) ঠেকালেও, ট্রাম্পের এই আকস্মিক সমঝোতা বার্তা নিয়ে দোটানায় আছেন।
দলের ভেতর প্রতিক্রিয়াশীর্ষ নেতৃত্ব, যেমন হাউস স্পিকার মাইক জনসন ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।সিনেটর রজার উইকার সহ অনেক প্রভাবশালী রিপাবলিকান একে 'বিপর্যয়কর' আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন।
আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততাপাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যস্থতায় আলোচনার টেবিলে ইরানকে ফিরিয়েছেন।ইসরায়েলের সাথে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখার দাবি জানালেও, ইরানের হাতে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ থাকার খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে সমঝোতার চূড়ান্ত শর্তাবলী শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। তবে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার আইনি নিশ্চয়তা থাকতে হবে। বিস্তারিত জানতে আল জাজিরা সংবাদ বা সিএনএন লাইভ পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। 
৩. ইসরাইলের দুঃস্বপ্ন ও হরমুজ প্রণালির ক্ষমতার ভারসাম্য

সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, এই চুক্তির শর্তগুলো প্রকারান্তরে ইরান সরকারকে রাজনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখবে। ইরান যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে (Strait of Hormuz) বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সক্ষমতা এবং পারস্য উপসাগরের তেল অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দেবে, যা মার্কিন মিত্র ইসরাইলের জন্য একটি স্থায়ী দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে। সিনেটের ইন্টেলিজেন্স কমিটির প্রধান টম কটনও গ্রাহামের এই উদ্বেগকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

৪. হোয়াইট হাউসের ওপর উভয়মুখী চাপ ও ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কেবল বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের নয়, বরং নিজের দলের ভেতরেই উভয়মুখী চাপের মুখে পড়েছেন:

  • কংগ্রেসের বাধা: মার্কিন সিনেটে সম্প্রতি একটি যুদ্ধ ক্ষমতার প্রস্তাব (War Powers Resolution) ৫০-৪৭ ভোটে পাস হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন ছাড়া ট্রাম্পের এককভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করা।

  • হাউস ভোটাভুটি স্থগিত: হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসেও একই ধরনের একটি প্রস্তাব পাসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালে রিপাবলিকান নেতারা শেষ মুহূর্তে ভোটগ্রহণ জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্থগিত করেন। হাউসের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে পর্যাপ্ত ভোট নিশ্চিত জেনেই রিপাবলিকানরা এই কৌশলগত সময়ক্ষেপণ করছে।

প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি, অপারেশন এপিক ফিউরি, হরমুজ প্রণালি সংকট, মাইক পম্পেও ও মার্কিন ভূ-রাজনীতির এমন নিখুঁত, বস্তুনিষ্ঠ এবং সম্পূর্ণ এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency