আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৩ মে, ২০২৬ প্রতিবেদক: বিডিএস বুুলবুল আহমেদ
বেইজিং: চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশে একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত আটজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। খনির ভেতরে এখনও বহু শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, গত শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শানসি প্রদেশের লিউশেনইউ কয়লাখনিতে এই বড় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে।
জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনার সময় খনির ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে মোট ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ঘটনার পর দ্রুত শুরু হওয়া বড় উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২০১ জন শ্রমিককে নিরাপদে ও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সিনহুয়া জানিয়েছে, খনি মুখ থেকে এখন পর্যন্ত আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে খনির নিচে এখনও ৩৮ জন শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন, যাদের উদ্ধারে শত শত কর্মী কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও খনির ভেতরের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, খনিটিতে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। এই বিষাক্ত, বর্ণহীন ও গন্ধহীন গ্যাসের কারণে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে অক্সিজেনের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে খনির নিচে আটকে পড়া বাকি শ্রমিকদের কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই খনি দুর্ঘটনার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আহতদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
“এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে দেশের প্রতিটি খাতকে কঠোর শিক্ষা নিতে হবে। সব অঞ্চল ও সরকারি বিভাগকে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের বড় বিপর্যয় প্রতিরোধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।”
উল্লেখ্য, শানসি প্রদেশকে চীনের কয়লা খনির প্রধান উৎপাদক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দেশটির খনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে উন্নত হলেও, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে না মানার কারণে চীনে এখনও প্রায়ই মারাত্মক খনি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কয়লা ব্যবহারকারী দেশ হলেও, একই সঙ্গে তারা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনেও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (Xinhua): ২৩ মে, ২০২৬ তারিখে শানসি প্রদেশের স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও উদ্ধারকারী দলের অফিশিয়াল বুলেটিন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা (রয়টার্স/এএফপি): বেইজিং ব্যুরো কর্তৃক শানসি প্রদেশের লিউশেনইউ খনি দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত সমসাময়িক প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |