প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
জাতীয় নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বড় ধরনের সাফল্য পেতে চায় বিএনপি। এ লক্ষ্যে দলটিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। চলতি বছরের শেষ নাগাদ সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পাওয়ার পর তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে:
তৃণমূলের তৎপরতা: সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক গণসংযোগ শুরু করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।
কৌশলগত অবস্থান: বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে জাতীয় পর্যায়ের জনপ্রিয়তা ধরে রাখা কঠিন হবে। তাই এই নির্বাচনকে দল ও সরকারের জন্য একটি ‘অ্যাসিড টেস্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ: ইতিমধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কিছু জায়গায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বিএনপি বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে প্রতিপক্ষকে সমীহ করে এগোতে চায়।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর নেতা-কর্মীরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামবেন। সরকারের অর্জনগুলো জনমনে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন জানান, দলীয় প্রতীক না থাকলেও তৃণমূলের ভোটে জনগণ তাদের সঙ্গেই থাকবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এই গুরুত্ব ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিবর্তনের ফল।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ আমল (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে ব্রিটিশ ভারতে ‘লোকাল সেলফ গভর্নমেন্ট’ বা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার প্রাথমিক পর্যায় ছিল। ১৯১৯ সালের বেঙ্গল ভিলেজ সেলফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্টের মাধ্যমে ইউনিয়ন বোর্ডের ধারণা তৈরি হয়। ১৯০০ সালের সেই সীমিত ক্ষমতার স্থানীয় প্রশাসন থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা অনেক বেশি ক্ষমতাবান ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তান আমল ও মৌলিক গণতন্ত্র (১৯৫৯-১৯৭১): ষাটের দশকে আইয়ুব খানের ‘বেসিক ডেমোক্রেসি’ বা মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের প্রকৃত শাসন প্রতিষ্ঠা।
স্বাধীনতা পরবর্তী ও ২০২৪-এর বিপ্লব: স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দলীয় ও নির্দলীয় প্রতীকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে এখন মানুষের প্রত্যাশা—একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় নির্বাচন।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই চৌকিদারি পঞ্চায়েত ব্যবস্থা থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখন প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আধুনিক প্রচারকৌশল ব্যবহার করছেন। চলতি বছরের শেষে হতে যাওয়া এই নির্বাচনটি ২০২৬ সালের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ইতিহাস সাক্ষী, শক্তিশালী স্থানীয় সরকারই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ থেকে ২০২৬ সালের এই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা—সবক্ষেত্রেই তৃণমূলের নেতৃত্বই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বিএনপির জন্য এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে তাদের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেওয়ার একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের গ্রিন সিগন্যাল পেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যেকোনো সময় তফশিল ঘোষণা করতে পারে, যা ২০২৬ সালের মে মাসের পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।
সূত্র: ১. বিএনপির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নির্বাচনী প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিবেদন (মে ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ও নির্বাচন ব্যবস্থার বিবর্তন (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |