প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৬ সালের শুরুটা বিশ্ববাসীর জন্য এক চরম অস্থিরতার বার্তা নিয়ে এসেছে। ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন সংঘাতের প্রভাবে যখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশ ছুঁয়েছে, ঠিক তখনই বিশ্ব অর্থনীতির অন্য প্রান্তে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সাধারণ মানুষের পকেট যখন মুদ্রাস্ফীতির চাপে শূন্য হচ্ছে, তখন তেল-গ্যাস, ব্যাংকিং ও প্রতিরক্ষা খাতের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সিন্দুকে জমা হচ্ছে রেকর্ড পরিমাণ বিলিয়ন ডলারের মুনাফা।
ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। এই সংকটের সুযোগে ইউরোপীয় তেল জায়ান্ট বিপি (BP) ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৩.২ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে, যা আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া শেল (Shell) ৬.৯২ বিলিয়ন এবং টোটাল এনার্জি ৫.৪ বিলিয়ন ডলার মুনাফা ঘরে তুলেছে।
একই চিত্র আর্থিক খাতেও। বাজারের অস্থিরতাকে পুঁজি করে ট্রেডিং ভলিউম বৃদ্ধি পাওয়ায় জেপি মর্গান রেকর্ড ১১.৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ছয়টি ব্যাংক সম্মিলিতভাবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪৭.৭ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে, যা করপোরেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা অর্জন।
যুদ্ধ মানেই অস্ত্রের চাহিদা। বিএই সিস্টেমস, লকহিড মার্টিন ও বোয়িংয়ের মতো সমরাস্ত্র নির্মাতারা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্ডার হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন প্রযুক্তির বিক্রি এখন তুঙ্গে। অন্যদিকে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে বিশ্বজুড়ে সৌর প্যানেল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নেক্সটএরা এনার্জির মতো কোম্পানিগুলোকে লাভের মুখ দেখিয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতির এই বৈষম্যমূলক প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের শতবর্ষী সংগ্রামের ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এদেশের রাজনীতিও বারবার বহিঃশক্তির প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান লড়াই ছিল অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তি।
স্বাধীনতার সংগ্রাম (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" তাঁর এই ঘোষণা ছিল শোষণমুক্ত এক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর স্বপ্ন।
গণতন্ত্র ও স্বৈরাচার পতন (১৯৯০-২০০৬): ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের যুগে প্রবেশ করে। পরবর্তী কয়েক দশকে দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেও সুশাসন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ রয়ে যায়।
২০২৪-এর বিপ্লব ও ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। ২০২৫ সাল ছিল সংস্কারের বছর এবং বর্তমান ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতির সংঘাতময় প্রভাবে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের 'রেমিট্যান্স যোদ্ধা' মর্যাদা এবং অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ইতিহাস সাক্ষী, প্রতিটি যুদ্ধের পেছনেই থাকে অর্থনৈতিক মুনাফার অংক। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ শোষণ হোক কিংবা ২০২৬ সালের করপোরেট মুনাফাবাজি—বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলনই ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে। বর্তমান ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বিশ্ব দেখছে এক ভয়াবহ বৈপরীত্য—যেখানে একদিকে মানুষের দীর্ঘশ্বাস আর অন্যদিকে বহুজাতিক কোম্পানির উৎসব। এই সংকট থেকে উত্তরণে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় বাজার পর্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
সূত্র: ১. দৈনিক যুগান্তর (মূল কন্টেন্ট ও সংবাদ বিশ্লেষণ) ২. বিবিসি নিউজ (বৈশ্বিক মুনাফা ও জ্বালানি বাজার রিপোর্ট) ৩. বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৬
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |