প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আবু জাফর। তিনি নিশ্চিত করেছেন, গুলি হাদির কানের ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাম দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে, যা তাঁর মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত হেনেছে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বাগান গেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিজি আবু জাফর এই তথ্য জানান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, যখন হাদিকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়, তখন তাঁর গ্লাসগো কোমা স্কেল (GCS) ছিল সর্বনিম্ন (৩, যা ১৫ পর্যন্ত থাকে)। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে জিসিএস কিছুটা উন্নত হলেও তিনি এখনো আর্টিফিশিয়াল ভেন্টিলেশনে (লাইফ সাপোর্ট) আছেন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভয়াবহতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন:
"ওনার ব্রেনের অবস্থা ছিল— গুলি কানের ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাম দিয়ে বের হয়ে গেছে। বুলেট ইনজুরি হচ্ছে— যেদিক দিয়ে ঢুকে সেদিক ছোট, যেদিক দিয়ে বের হয়, সেখানে বড় ইনজুরি হয়, সেটাই হয়েছে। ব্রেন ইনজুরি হচ্ছে, ব্রেন ফুলে ফেঁপে যায়, প্রেশার বেড়ে যায়। এটা অত্যন্ত ক্ষতিকারক।"
মস্তিষ্কের ভেতরের চাপ (Intracranial Pressure) যেন মারাত্মকভাবে না বাড়ে, সেজন্য নিউরো সার্জন ডা. জাহিদ রায়হান ও তাঁর দল অস্ত্রোপচার করে ব্রেনের খুলিটা বড় করে খুলে দিয়েছেন। এছাড়া, নাক ও গলা দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, যা নাক-গলার চিকিৎসকেরা ঠিক করে দিয়েছেন।
সরকারিভাবে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরিবারের ইচ্ছায় অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র ধরে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার পল্টনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানের বর্ণনা: ঘটনাটি ঘটে পল্টন ডিআর টাওয়ার ও বাইতুস সালাম জামে মসজিদের মাঝামাঝি সড়কে।
হামলার ধরন: হাদি একটি রিকশায় করে বিজয়নগরের দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক সে সময় হেলমেট পরা দুজন আরোহী একটি মোটরসাইকেলে এসে বায়তুস সালাম জামে মসজিদের সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিরাপত্তাকর্মীর ভাষ্য: ডিআর টাওয়ারের নিরাপত্তাকর্মী সাকিব হোসেন জানান, গুলির শব্দ শুনে তিনি রাস্তায় এসে দেখেন, রিকশায় করে রক্তাক্ত অবস্থায় হাদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং রাস্তায় রক্ত ঝরছে।
সিসিটিভি চিত্র: সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় হাদি যাচ্ছিলেন। একটি মোটরসাইকেল পিছু নেয় এবং রিকশার ডান পাশ ঘেঁষে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলের পেছনে বসা আরোহীটি হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে।
ওসমান হাদির ওপর এই নৃশংস হামলা তফসিল পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ডিসেম্বর ২০২৫ এর এই ঘটনাপ্রবাহে উঠে এসেছে:
| সময় | ঘটনা/বক্তব্য |
| ১২ ডিসেম্বর, ১০:৫৫ পিএম | বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ জোবাইদা রহমান হাদির চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন। |
| ১২ ডিসেম্বর, ১০:৩৪ পিএম | জনপ্রিয় বক্তা আজহারী (সম্ভবত মিজানুর রহমান আজহারী) প্রশ্ন তুলেছেন, "জুলাই সৈনিকদের নিরাপত্তা কোথায়?" |
| ১২ ডিসেম্বর, ০৭:৫৫ পিএম | বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছে, "হাদির জন্য কাঁদছে পুরো বাংলাদেশ"। |
| ১২ ডিসেম্বর, ০৭:৪২ পিএম | চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে— মোটরসাইকেলে করে আসা ২ জন হামলাকারী সম্প্রতি হাদির প্রচারণার টিমে যোগ দিয়েছিল। |
এই হামলা কেবল একজন রাজনৈতিক মুখপাত্রের ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আসন্ন নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আবু জাফরের বক্তব্য (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল)।
প্রত্যক্ষদর্শী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত তথ্য।
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাপ্রবাহ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |