বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ | ০৫ মে ২০২৬
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কয়েক দশকের দ্রাবিড় আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত করেছেন অভিনেতা সি জোসেফ বিজয়। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১০৭টি আসন পেয়ে তার দল টিভিকে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১টি আসনের ঘাটতি মেটাতে এখন চলছে পর্দার আড়ালের তীব্র রাজনৈতিক তৎপরতা।
কোনো দলই এককভাবে ১১৮টি আসনের (সংখ্যাগরিষ্ঠতা) কোটা পূরণ করতে না পারায় তামিলনাড়ু এখন একটি ত্রিশঙ্কু বিধানসভার সম্মুখীন। সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিভিকে-কে সরকার গঠনের জন্য রাজ্যপাল আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। সেক্ষেত্রে বিজয় একটি সংখ্যালঘু প্রশাসন হিসেবে দায়িত্ব শুরু করতে পারেন এবং পরবর্তীতে বিধানসভায় আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।
বিজয় এবং তার দল বাইরের সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। তাদের নজর মূলত বর্তমানে ডিএমকে (DMK) জোটের শরিক দলগুলোর দিকে:
কংগ্রেস (৫টি আসন): নির্বাচনের আগে কংগ্রেস টিভিকের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছিল, যা ডিএমকে-র সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়।
বামপন্থী ও ভিসিকে: সিপিআই (২টি আসন), সিপিআইএম (২টি আসন) এবং ভিসিকে (২টি আসন) দলগুলোর সমর্থন পেলে বিজয়ের পাল্লা ভারী হবে।
২০০৬ সালের উদাহরণ: এর আগে ২০০৬ সালে সংখ্যালঘু ডিএমকে সরকার যেভাবে বাইরের সমর্থনে টিকে ছিল, বিজয় সেই মডেল অনুসরণ করতে পারেন।
সরকার গঠনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আদর্শগত মেরুকরণ:
বিজেপি ও এআইএডিএমকে: বিজয় বিজেপিকে তার ‘আদর্শগত প্রতিপক্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যেহেতু এআইএডিএমকে বিজেপির মিত্র, তাই তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
ব্যর্থ আলোচনা: ২০২৫ সালের শেষের দিকে এআইএডিএমকে এবং টিভিকের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সূত্রপাত হলেও বিজয়ের কঠোর শর্তের কারণে তা ভেস্তে যায়। সাম্প্রতিক মাসগুলোর প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ি ও তিক্ততা এই জোটের পথ আরও কঠিন করে তুলেছে।
৫টি আসন পাওয়া পাট্টালি মাক্কাল কাচ্চি (পিএমকে) বিজয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। যদি ছোট দলগুলো সম্মিলিতভাবে বিজয়ের পাশে দাঁড়ায়, তবে ১১টি আসনের ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলা অসম্ভব নয়।
থালাপতি বিজয়ের এই ঐতিহাসিক অভিষেক প্রমাণ করে যে তামিলনাড়ুর মানুষ বিকল্প নেতৃত্বের সন্ধান করছে। তবে কেবল সিনেমার জনপ্রিয়তা দিয়ে সরকার চালানো সম্ভব নয়; এখন বিজয়ের রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরীক্ষা হবে। আগামী ৭ মে-র মধ্যে শপথ গ্রহণের যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা বাস্তব রূপ পায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: ১. আনন্দবাজার ও এনডিটিভি ইন্ডিয়া রিপোর্ট - মে ২০২৬। ২. তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ডাটা।
প্রতিবেদক:
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |