বিডিএস নিউজ ডেস্ক | ০৫ মে ২০২৬
তেহরান: দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও উত্তেজনার পর অবশেষে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার টেবিলে বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইরান। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই আলোচনার সফলতার জন্য ওয়াশিংটনকে তাদের অতিরিক্ত দাবিগুলো শিথিল করতে হবে। সোমবার (৪ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই টেলিভিশনে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইসমাইল বাকেই জানান, ইরানের বর্তমান প্রধান লক্ষ্য হলো যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো। তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্য পক্ষকে (যুক্তরাষ্ট্র) একটি যুক্তিসঙ্গত অবস্থানে আসতে হবে এবং ইরানকে ঘিরে তাদের অন্যায্য ও অতিরিক্ত দাবিগুলো পরিত্যাগ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “এতদিনে আমেরিকার বোঝা উচিত যে, হুমকি ও শক্তির ভাষা ব্যবহার করে তারা ইরানি জাতির সঙ্গে আচরণ করতে পারে না”।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে আছে। এই উত্তেজনার মূলে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি:
ইরানের নিয়ন্ত্রণ: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে ইরান এই জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
বৈশ্বিক প্রভাব: এই নিয়ন্ত্রণের ফলে বিশ্বজুড়ে তেল, গ্যাস ও সার সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
মার্কিন অবরোধ: পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে।
পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা বা ‘এসকর্ট’ দেওয়া শুরু করবে।
তেহরানের প্রতিক্রিয়া: ইরান নিজেকে এই জলপথের রক্ষক হিসেবে দাবি করে সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের সতর্কতা দিয়েছে।
মধ্যস্থতা: বাকেই জানান যে, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান ইতিমধ্যে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাবের জবাবও পাঠিয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
ইসমাইল বাকেই দাবি করেন, সংঘাত শুরুর আগে এই পথটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ ছিল। বর্তমান অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সংকটের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তার আদান-প্রদান হলেও ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং হরমুজে মার্কিন নৌবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও ভেস্তে দিতে পারে। ১৪ দফার প্রস্তাবটি যদি ওয়াশিংটন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা না করে, তবে পারস্য উপসাগরে আরও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা অমূলক নয়।
তথ্যসূত্র: ১. ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ব্রিফিং - ০৪ মে ২০২৬। ২. আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি ও আল-জাজিরা রিপোর্ট।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
বিশেষ প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |