বিডিএস নিউজ ডেস্ক | ০৪ মে ২০২৬
তেহরান/ওয়াশিংটন: পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক নতুন এবং ভয়ংকর মাত্রায় পৌঁছেছে। দুই মাস ধরে ইরানের কার্যত অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী। এই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দ্বন্দের সকল নিয়ন্ত্রণ বা ‘কার্ড’ এখন তাঁর হাতে। অন্যদিকে, তেহরান এই দাবিকে উপহাস করে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) উনো কার্ড খেলার একটি ছবি পোস্ট করে নিজের আত্মবিশ্বাসের জানান দেন। এর পরপরই তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি বিশেষ সামরিক অভিযানের ঘোষণা করেন। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো মার্কিন সামরিক পাহারায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ পথ করে দেওয়া।
ইরানের অবরোধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালন প্রতি ৪.৩০ ডলারে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের বার্তার জবাবে হায়দ্রাবাদস্থ ইরানি কনস্যুলেট ব্যঙ্গ করে বলেছে, “যার হাতে সব কার্ড থাকে, সে আসলে হারছে।” পাশাপাশি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে শক্তি প্রয়োগ করে থামিয়ে দেওয়া হবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বিপুল সামরিক শক্তির অধিকারী হলেও ইরান ‘অপ্রতিসম যুদ্ধের’ মাধ্যমে সেই শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক মাইকেল ক্লার্কের মতে:
যুক্তরাষ্ট্রের ৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি ইন্টারসেপ্টর মিসাইল দিয়ে ইরানের মাত্র ২০-৫০ হাজার ডলারের সস্তা ড্রোন ঠেকাতে হচ্ছে।
এই ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক ও সামরিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সোমবার (৪ মে) একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তা অস্বীকার করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি এক গভীর অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে। একদিকে ট্রাম্প আলোচনার কথা বলছেন, অন্যদিকে আইআরজিসি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
২০২৬ সালের এই সংকট কেবল দুটি দেশের ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক অশনি সংকেত। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই জলপথ দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকলে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে। ট্রাম্পের ‘কার্ড’ কূটনীতি শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র যুদ্ধের রূপ নেয় নাকি আলোচনার টেবিলে সমাধান হয়, বিশ্ববাসী এখন সেদিকেই তাকিয়ে।
তথ্যসূত্র: ১. আল-জাজিরা (Al Jazeera) ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট - ০৪ মে ২০২৬। ২. মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) মিডিয়া সেল। ৩. ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) প্রেস রিলিজ।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
বিশেষ প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |