আন্তর্জাতিক ডেস্ক: [BDS Bulbul Ahmed]
তারিখ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৮ দিনের যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী যে পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে, তাতে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর—সবকিছুতেই বড় ধরনের টান পড়েছে পেন্টাগনের অস্ত্রভাণ্ডারে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১ হাজার ১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র (JASSM-ER) ব্যবহার করেছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তথ্যমতে, এখন মজুদে আছে মাত্র ১ হাজার ৫০০টির মতো। এছাড়া:
টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: ১ হাজারেরও বেশি ছোড়া হয়েছে, যা বার্ষিক ক্রয়ের তুলনায় ১০ গুণ বেশি।
প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর: ১ হাজার ২০০টির বেশি ব্যবহৃত হয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৪০ লক্ষ ডলার।
মোট ব্যয়: প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলার খরচ হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দুই দিনেই ৫৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। দুটি স্বাধীন গবেষণা সংস্থার মতে, মোট খরচ এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮০০ কোটি থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের এই ব্যাপক ব্যবহারে বিপাকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কৌশল। মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াতে গিয়ে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা 'থাড' (THAAD) সিস্টেমের ইন্টারসেপ্টরও প্রথমবারের মতো সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আনা হয়েছে, যা এশিয়ায় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই অস্ত্র সংকটের খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। তবে সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির ডেমোক্র্যাট সিনেটর জ্যাক রিড সতর্ক করে বলেছেন, “অস্ত্রের বর্তমান যে উৎপাদন গতি, তাতে এই ঘাটতি পূরণ করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যেতে পারে।” সিএসআইএস (CSIS)-এর গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, ৩৮ দিনের এই যুদ্ধে ইরানের প্রায় ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। তবে বড় লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একাধিকবার আঘাত করতে হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ধারণার চেয়েও বেশি হয়েছে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight): ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ অস্ত্র ব্যবহার করছে, তা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য কতটা টেকসই তা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। যদি এই মুহূর্তে এশিয়ার কোনো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন কমান্ডারের ভাষ্যে ‘অস্ত্রভাণ্ডারের একটি সীমা আছে’—আর সেই সীমা অতিক্রম করাই এখন ওয়াশিংটনের প্রধান দুশ্চিন্তা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |