| বঙ্গাব্দ

বাজেট ২০২৬-২৭: করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব ডিসিসিআই-এর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-04-2026 ইং
  • 4596 বার পঠিত
বাজেট ২০২৬-২৭: করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব ডিসিসিআই-এর
ছবির ক্যাপশন: বাজেট ২০২৬-২৭

বাজেট ২০২৬-২৭: করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব ডিসিসিআই-এর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: [BDS Bulbul Ahmed]

তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা কমাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়ের ন্যূনতম সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। বর্তমানে এই সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

১. জীবনযাত্রায় স্বস্তি আনাই মূল লক্ষ্য

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাথে এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় ডিসিসিআই এই প্রস্তাবনা তুলে ধরে। সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে প্রায় সাড় ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমছে এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করা হলে এই বিশাল সংখ্যক করদাতা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

২. করপোরেট ও ব্যবসা খাতে প্রস্তাবনা

ব্যক্তিখাতের পাশাপাশি করপোরেট ও বাণিজ্যিক আমদানির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার দাবি করেছে ডিসিসিআই:

  • অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানি: করহার ২৭.৫০% থেকে কমিয়ে ২৫% নির্ধারণ।

  • বাণিজ্যিক আমদানি: আগাম কর ৭.৫০% থেকে কমিয়ে ৫% করা।

  • ভ্যাট ব্যবস্থা: অগ্রিম ভ্যাট ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে কেবল চূড়ান্ত মূল্যের ওপর ভ্যাট নির্ধারণ।

  • রিফান্ড প্রক্রিয়া: ভ্যাট ফেরত বা রিফান্ড সহজ করতে ‘সিঙ্গেল স্টেপ’ বা একক সেবা ব্যবস্থা চালু।

৩. এনবিআর-এর অবস্থান

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানান, শুল্কের হার কমানোর চেয়ে অ-শুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করে ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং কর ফাঁকিবাজদের চিহ্নিত করার ওপর এ বছর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া করপোরেট কর রিটার্ন ও রিফান্ড ব্যবস্থা পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

৪. অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক খাত ও অটোমেশন

ঢাকা চেম্বারের মতে, দেশের অর্থনীতির প্রায় ৮০ শতাংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়ে গেছে। কর জাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে সম্ভাব্য করদাতাদের শনাক্ত করা গেলে সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে রাজস্ব কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight): করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর এই দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আয় দিয়ে একটি পরিবারের মানসম্মত জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব। ডিসিসিআই-এর এই প্রস্তাব যদি বাজেটে প্রতিফলিত হয়, তবে তা দেশের অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয় বৃদ্ধি করবে এবং পরোক্ষভাবে অর্থনীতিকে গতিশীল করবে। তবে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency