লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
তারিখ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামাবাদে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি আলোচনার প্রেক্ষাপটে একটি বড় অমীমাংসিত ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের জব্দ হওয়া বিপুল পরিমাণ সম্পদ। ইরান কেবল তাদের আটকে থাকা অর্থ ফেরতই চায় না, বরং সাম্প্রতিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।
গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিভিন্ন দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতিমা মাহাজিরানি জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকার আর্থিক লোকসানও অন্তর্ভুক্ত।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আটকে রাখা হয়েছে।
জিমি কার্টারের আদেশ (১৯৭৯): প্রথম দফায় প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সরকারি সম্পদ জব্দ করা হয়। সিটি ব্যাংক, জেপি মরগানসহ বড় মার্কিন ব্যাংকগুলো ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।
ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন (২০১৮): ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পর কিছু সম্পদ অবমুক্ত হলেও, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালে সেগুলো পুনরায় জব্দ হয়।
২০২৩ সালে বন্দি বিনিময়ের শর্তে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে শর্ত ছিল, এই অর্থ কেবল ওষুধ ও খাদ্যের মতো মানবিক কাজে ব্যয় হবে। কিন্তু ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরাইল-ইরান উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র কাতারকে সেই অর্থ ব্যবহার করতে দিতে নিষেধ করে। ফলে এই বিশাল অংকের অর্থ বর্তমানে আবারও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জব্দ হওয়া সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়টি একটি ‘নন-নেগোশিয়েবল’ বা আপসহীন শর্ত। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কারণে বছরের পর বছর আমাদের সম্পদ আটকে আছে। তাদের আন্তরিকতা প্রমাণের জন্য এখনই এই অর্থ ফেরত দিতে হবে।”
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি মূলত আলোচনার টেবিলে দরকষাকষির একটি কৌশল হতে পারে। তবে ৬ বিলিয়ন ডলারের মতো লিকুইড সম্পদ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় থাকায় এই সম্পদ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও শর্তসাপেক্ষ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
| সময়কাল | সম্পদের ধরণ | পরিমাণ (আনুমানিক) | বর্তমান অবস্থা |
| ১৯৭৯ | রিজার্ভ ও বাণিজ্যিক সম্পদ | ৮ - ১১ বিলিয়ন ডলার | জব্দ / আংশিক ক্লেইম ট্রাইব্যুনালে। |
| ২০১৫ | তেল রাজস্ব ও ফরেন রিজার্ভ | ১০০ বিলিয়ন ডলার | সাময়িকভাবে শিথিল হয়েছিল। |
| ২০২৩ | দক্ষিণ কোরিয়ায় তেলের আয় | ৬ বিলিয়ন ডলার | কাতারে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় জব্দ। |
| ২০২৬ | ইরানের দাবি (ক্ষতিপূরণসহ) | ২৭০+ বিলিয়ন ডলার | আলোচনার টেবিলে শর্ত হিসেবে আছে। |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |