প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বিচার বিভাগের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম নাসির উদ্দিন সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এই সাক্ষাতে সিইসি সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা কামনা করেন এবং নির্বাচনকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনের জন্য ৩০০ জন বিচারক চেয়েছেন। প্রধান বিচারপতি এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাজে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফশিল ঘোষণার চূড়ান্ত সময় নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি মাসউদের ঘোষণা: নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ নিশ্চিত করেছেন যে, রেওয়াজ অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কমিশনের সাক্ষাতের পর সন্ধ্যায় কিংবা পরদিন বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তফশিল ঘোষণা করা হবে।
ভোটের সম্ভাব্য দিন: জানা গেছে, তফশিলে আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হতে পারে।
আহ্বান: ইসি মাসউদ জানান, তফশিল ঘোষণার সময় সিইসি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনদের সহযোগিতা কামনা করে বিশেষ আহ্বান জানাবেন।
রেকর্ডিং ও ভাষণ: তফশিল ঘোষণার প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে ইসি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বেতারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষণ রেকর্ড করতে চিঠি দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে ফিরে এসে বিকালে ভাষণটি রেকর্ড করা হবে। কোনো কারণে বুধবার তফশিল ঘোষণা না হলে বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।
এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাদের প্রথম জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করায় কমিশন একটি কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে এই কমিশনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা প্রমাণিত হবে।
নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বিচারকদের নিয়োগ একটি প্রতিষ্ঠিত প্রথা, যা বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন দ্বারা সমর্থিত। এই প্রথাটি নির্বাচনকে নিরপেক্ষ রাখতে এবং দ্রুত বিচারিক প্রতিকার নিশ্চিত করতে অপরিহার্য।
| সময়কাল | প্রাসঙ্গিক ঘটনা ও প্রেক্ষাপট | বক্তব্য ও আলোচনা |
| ১৯৫০-১৯৭১ | নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও স্বায়ত্তশাসন | ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পর, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল বাঙালি জাতির রাজনৈতিক অধিকারের চূড়ান্ত পরীক্ষা। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম স্বাধীনতার মূল ভিত্তি ছিল। |
| ১৯৭২-২০০০ | সংবিধান ও নির্বাচনী আইন প্রতিষ্ঠা | ১৯৭২ সালের সংবিধানে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। এই সময়কালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে বিচারকদের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। |
| ২০০৭-২০০৮ (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) | নির্বাচনী সংস্কারের চাপ | এই সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ব্যাপক রাজনৈতিক আন্দোলন হয়। প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করার দাবি জোরালো হয়, যা পরবর্তীতে নির্বাচনকালীন বিচারকদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। |
| ২০১৫-২০২৫ | নির্বাচনকালীন প্রশাসনের বিতর্ক | এই দশকে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের ধরন এবং নির্বাহী ও বিচার বিভাগের সমন্বয় নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বর্তমান অনুরোধ প্রমাণ করে যে, ২০২৫ সালের শেষেও এসে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বিচার বিভাগের ওপর নির্ভরশীলতা বজায় রয়েছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ। |
সিইসি এ এম নাসির উদ্দিন কর্তৃক বিচারকদের কাছে ৩০০ বিচারক চাওয়া মূলত নির্বাচনের সময় আচরণবিধি লঙ্ঘন ও তাৎক্ষণিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি শক্তিশালী বিচারিক উপস্থিতি নিশ্চিত করারই প্রয়াস। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণার মাঝেই খুলনা, কুমিল্লা, এবং গাজীপুরের মতো বিভিন্ন আসনে প্রার্থী মনোনয়ন এবং সংঘর্ষের খবর আসায়, এই নির্বাচন কমিশনের প্রথম জাতীয় নির্বাচনটি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
১. প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম নাসির উদ্দিন ও প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সাক্ষাৎ সংক্রান্ত তথ্য।
২. নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের বক্তব্য।
৩. নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র থেকে প্রাপ্ত তফশিল সংক্রান্ত তথ্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |