| বঙ্গাব্দ

ডা. শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি: ‘অধিকার আদায়ে আর এক চুলও ছাড় নয়’।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-04-2026 ইং
  • 2543685 বার পঠিত
ডা. শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি: ‘অধিকার আদায়ে আর এক চুলও ছাড় নয়’।
ছবির ক্যাপশন: ডা. শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি

আর এক চুলও ছাড় নয়’: সহিংসতায় আহতদের দেখে সরকারকে জামায়াত আমিরের কড়া হুঁশিয়ারি

লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed

ক্যাটাগরি: রাজনীতি ও জাতীয়

সময়: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | দুপুর ২:৩০

রাজনীতি মানে কি কেবল হাতাহাতি আর রক্তপাত? নাকি এটি হওয়া উচিত পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক? শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্বাচনী সহিংসতায় আহতদের দেখতে গিয়ে এই প্রশ্নই তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভয়াবহ সন্ত্রাসের শিকার নেতাকর্মীদের অবস্থা দেখে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

১. ‘জুলাইয়ের রক্তই কি শেষ নয়?’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে এত মানুষ প্রাণ দিল, তবুও কেন রাজনীতির মাঠে আজও রক্ত ঝরছে? তিনি আশা করেছিলেন নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি হবে সুস্থ ও মার্জিত। কিন্তু ৯ এপ্রিলের উপনির্বাচনে শেরপুর ও বগুড়ায় যে জালিয়াতি এবং সহিংসতা হয়েছে, তা সরকারের সদিচ্ছাকেই বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

২. হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় এবং অব্যবস্থাপনা দেখে আমির বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা কোথায় যাচ্ছে? ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী এবং সেবার বেহাল দশাই বলে দিচ্ছে সরকার জনগণের মৌলিক অধিকারের প্রতি কতটা উদাসীন।

৩. প্রতি মুহূর্তে ৬০ লাখ টাকা খরচ: কার স্বার্থে?

সংসদ পরিচালনার খরচ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, সংসদের পেছনে প্রতি মুহূর্তে প্রায় ৬০ লাখ টাকা খরচ হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জনগণের এই কষ্টের টাকা খরচ করতে আমাদের কলিজা কাঁপা উচিত নয় কি?” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংসদে বসে চরিত্র হনন বা অশ্লীল বাক্য বিনিময় না করে জনকল্যাণে মনোযোগ দিতে হবে।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য মূলত একটি রাজনৈতিক ‘রেড অ্যালার্ট’। একদিকে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা থাকলেও, নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে তাঁর এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে—জনগণ ও নেতাকর্মীদের অধিকার রক্ষায় জামায়াত এবার রাজপথেও কঠোর হতে পারে।


এক নজরে ডা. শফিকুর রহমানের প্রধান বক্তব্য:

  • সহিংসতা: উপনির্বাচনে জালিয়াতি ও সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা এবং আর ‘ছাড়’ না দেওয়ার ঘোষণা।

  • সংসদ: ৬০ লাখ টাকার প্রতি মুহূর্তের খরচ এবং অশ্লীল বাক্য বিনিময়ের রাজনীতির অবসান দাবি।

  • স্বাস্থ্যসেবা: হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় জনগণের প্রতি অবিচারের অভিযোগ।

  • প্রতিশ্রুতি: সরকারের বিরুদ্ধে অঙ্গীকার লঙ্ঘনের অভিযোগ।


উপসংহার: ১৫ এপ্রিলের অধিবেশন ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

আগামী ১৫ এপ্রিল সংসদের অধিবেশন পুনরায় শুরু হওয়ার আগে বিরোধীদলের এই কঠোর অবস্থান সরকারের জন্য বড় চাপ তৈরি করবে। একদিকে ৯১টি বিল পাশ করে সরকার নিজেদের সক্ষমতা দেখাচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দল মাঠের বাস্তবতা আর জনগণের অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত: আপনি কি একমত যে সংসদ পরিচালনায় যে অর্থ ব্যয় হয়, তার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না? কমেন্টে আপনার ভাবনা জানান!

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency