লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটেগরি: রাজনীতি ও অর্থনীতি
সময়: ১২ এপ্রিল ২০২৬
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সেমিনারে দেশের বর্তমান জ্বালানি ও কৃষি সংকট নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, সংসদের ভেতরে তেলের জোয়ার থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা জ্বালানির জন্য হাহাকার করছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের ভেতরে সরকারি দলের মন্ত্রীদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে। অথচ বাস্তবতা হলো, সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সংসদে সব আশা বিফলে না গেলেও এখন পর্যন্ত জাতির জন্য খুব ভালো কিছু ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয়নি।”
দেশের ব্যাংকিং ও সামগ্রিক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, গোটা সমাজ এখন ‘গোঁজামিল’ আর ‘টপ-ড্রেসিং’-এর মাধ্যমে চলছে। ব্যাংকিং খাতে ক্যাশ নেই, অথচ খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে। এই ‘হিসাব মেলানোর’ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি মেরিটোক্রেটিক (মেধাভিত্তিক) সমাজ গড়ার ওপর জোর দেন তিনি।
কৃষিখাতে জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের ১৮ শতাংশ জ্বালানি ব্যবহৃত হয় কৃষিতে। বর্তমানে জ্বালানির অভাবে বোরো চাষে বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা— “কৃষি বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। কোনো বিদেশি ঋণ জাতিকে সোজা করে দাঁড় করাতে পারবে না যদি আমাদের কৃষি ধ্বংস হয়ে যায়।”
বাফার স্টক: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের জরুরি মজুত বা বাফার স্টক গড়ে তুলতে হবে।
সিন্ডিকেট নির্মূল: জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সোলার এনার্জির মতো বিকল্প উৎসে নজর দিতে হবে।
উপযুক্ত স্থানে উপযুক্ত লোক: কৃষিবিদ বা বিসিবির মতো সংগঠনে জোর করে নেতৃত্ব দখলের ‘ক্যু’ কালচারের কবর রচনা করতে হবে।
হুঁশিয়ারি: যদি ফ্যাসিজম বা গায়ের জোরের পথে হাঁটা হয়, তবে জনগণের শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করা হবে ইনশাআল্লাহ।
১২ এপ্রিলের এই সকালে ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য মূলত একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্ষোভের প্রতিফলন। একদিকে সংসদে ৯১টি বিল পাশের মাধ্যমে সরকার আইনি সংস্কারের দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধী দল মাঠ পর্যায়ের সংকটের কথা বলে সরকারকে রাজপথের আন্দোলনের ভয় দেখাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের সমাধান না হলে সামনের দিনগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা বড় হুমকির মুখে পড়তে পারে।
আপনার মতামত: আপনি কি মনে করেন জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব আমাদের খাদ্য বাজারে আগুন ধরিয়ে দেবে? কমেন্টে আপনার এলাকা বা কৃষি অভিজ্ঞতার কথা জানান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |