| বঙ্গাব্দ

ডা. শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি: ‘অধিকার আদায়ে আর এক চুলও ছাড় নয়’।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-04-2026 ইং
  • 1049621 বার পঠিত
ডা. শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি: ‘অধিকার আদায়ে আর এক চুলও ছাড় নয়’।
ছবির ক্যাপশন: ডা. শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি

আর এক চুলও ছাড় নয়’: শেরপুরের সহিংসতায় আহতদের দেখে সরকারকে জামায়াত আমিরের আল্টিমেটাম

লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]

ক্যাটেগরি: রাজনীতি ও মানবাধিকার

সময়: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | দুপুর ২:০০

রাজনীতি মানে কি কেবল হাতাহাতি আর সন্ত্রাস? নাকি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার জায়গা? শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্বাচনী সহিংসতায় আহতদের দেখে বের হওয়ার সময় এই প্রশ্নই তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভয়াবহ সন্ত্রাসের শিকার নেতাকর্মীদের অবস্থা দেখে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

১. ‘রক্ত দেওয়া কি ওখানেই শেষ হবে না?’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে এত মানুষ প্রাণ দিল, তবুও কেন রাজনীতির মাঠে রক্ত ঝরছে? তিনি আশা করেছিলেন নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি হবে ভদ্রতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার। কিন্তু ৯ এপ্রিলের উপনির্বাচনে শেরপুর ও বগুড়ায় যে জালিয়াতি এবং সহিংসতা হয়েছে, তা সরকারের সদিচ্ছাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

২. হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবা

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় এবং অব্যবস্থাপনা দেখে আমির বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা কোথায় যাচ্ছে? ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী এবং সেবার মানই বলে দিচ্ছে সরকার জনগণের মৌলিক অধিকারের প্রতি কতটা উদাসীন।

৩. সংসদের খরচ ও জনগণের আমানত

সংসদ অধিবেশনের বিশাল খরচের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান একটি চমকপ্রদ তথ্য দেন। তিনি জানান, সংসদের পেছনে প্রতি মুহূর্তে প্রায় ৬০ লাখ টাকা খরচ হয়। তিনি বলেন, “জনগণের এই কষ্টের টাকা খরচ করতে আমাদের কলিজা কাঁপা উচিত।” তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সংসদে বসে চরিত্র হনন বা অশ্লীল বাক্য বিনিময় না করে জনকল্যাণে মনোযোগ দিতে হবে।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য মূলত একটি রাজনৈতিক ‘সতর্কবার্তা’। একদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সমালোচনা, অন্যদিকে আমিরের এই কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ‘আর এক চুলও ছাড় নয়’—এই ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জনদাবি আদায়ে জামায়াত এবার মাঠে কঠোর অবস্থান নিতে পারে।


এক নজরে ডা. শফিকুর রহমানের প্রধান হুঙ্কার:

  • সহিংসতা: উপনির্বাচনে জালিয়াতি ও সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা।

  • সংসদ: ৬০ লাখ টাকার প্রতি মুহূর্তের খরচ ও চরিত্র হননের সংস্কৃতির অবসান।

  • স্বাস্থ্যসেবা: হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যর্থতা।

  • প্রতিশ্রুতি: সরকারের বিরুদ্ধে ওয়াদা ভঙ্গের অভিযোগ।


উপসংহার: ১৫ এপ্রিলের অধিবেশন ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

আগামী ১৫ এপ্রিল সংসদের অধিবেশন পুনরায় বসবে। তার আগেই বিরোধীদলের এই কঠোর অবস্থান সংসদের ভেতরে ও বাইরে উত্তাপ ছড়াবে। একদিকে যেমন রেকর্ড বিল পাশ করে সরকার নিজেদের সক্ষমতা দেখাচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দল ‘জনগণের অধিকার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজপথে চাপ সৃষ্টি করছে। শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত: সংসদ পরিচালনার এই বিশাল খরচ এবং বর্তমান রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে আপনার ভাবনা কী? কমেন্টে আমাদের জানান

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency