সংসদ বিষয়ক প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট )
ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬: জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একসময়ের গেজেটভুক্ত মেয়র ইশরাক হোসেন। তিনি দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলের নির্বাচনে তাঁর বিজয়ী হওয়ার আদালতের রায়কে যদি ‘অবৈধ’ বলা হয়, তবে একই আদালতের রেফারেন্সে গঠিত বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সকল সিদ্ধান্তকেও অবৈধ ঘোষণা করতে হবে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই দাবি জানান।
বিতর্ক শুরু হয় যখন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সিটি করপোরেশন বিলের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে ইশরাক হোসেনের মেয়র পদের প্রসঙ্গটি তোলেন। তিনি বলেন, ইশরাক হোসেন নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন এবং গেজেটও হয়েছিল। কিন্তু বিগত অন্তর্বর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায় অবমাননা করে তাঁকে শপথ নিতে দেয়নি। প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, তৎকালীন মন্ত্রিসভায় থাকা বর্তমান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম কেন তাঁকে শপথ পড়াতে দেননি?
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ইশরাক হোসেনের ওই আন্দোলন হয়েছিল ২০২৫ সালের মে মাসে, অথচ তিনি নিজে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে এই ঘটনার সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা ‘অসত্য’। তিনি আরও যোগ করেন যে, ড. ইউনূস লন্ডনে গিয়ে সংসদ নেতার কাছে ট্রফি দিয়ে এসেছিলেন, যা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
ডেপুটি স্পিকারের অনুমতি নিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতির বেঞ্চে আমার রায়ের বৈধতা বহাল রাখা হয়েছিল। যদি আমাকে অবৈধ দাবিদার বলা হয়, তবে সেই আদালতের রেফারেন্স নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শপথও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সে ক্ষেত্রে ওই সরকারের সকল কর্মকাণ্ডকেও অবৈধ ঘোষণা করতে হবে।”
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ২০২৬ সালের এই সংসদীয় বিতর্ক প্রমাণ করে যে—বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল এবং শেখ হাসিনা আমলের আদালতের রায়গুলোর বৈধতা নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে এখনো গভীর দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। ইশরাক হোসেনের এই যুক্তি আইনিভাবে অত্যন্ত জটিল এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ‘এক পা এক পা’ করে আমরা যখন সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছি, তখন এই ধরণের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
| বিষয় | ইশরাক হোসেন ও সরকারি দলের যুক্তি | নাহিদ ইসলাম ও বিরোধী দলের যুক্তি |
| মেয়র পদের বৈধতা | সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে ইশরাকের জয় বহাল ছিল। | শেখ হাসিনার আমলের ওই নির্বাচন ও দাবিটি ছিল ‘অবৈধ’। |
| শপথ না নেওয়া | অন্তর্বর্তী সরকার আদালত অবমাননা করে শপথ নিতে দেয়নি। | আন্দোলনের সময় নাহিদ ইসলাম সরকারে ছিলেন না। |
| অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা | আদালতের একই রেফারেন্সে সরকার গঠিত হয়েছিল। | ড. ইউনূসের সেই সময়ের ভূমিকা ছিল সময়োপযোগী ও যৌক্তিক। |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |