বিশেষ সামরিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও জিও-পলিটিক্যাল এনালিস্ট)
তেহরান, ৫ এপ্রিল ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন বারুদে আচ্ছন্ন, তখন এক অভাবনীয় অভিযোগ তুলল ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, গত ৩ এপ্রিল ভূপাতিত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই তাঁকে ‘বোমা মেরে হত্যার’ ছক কষছে। ইরানের সামরিক সূত্রের বরাতে তাসনিম জানাচ্ছে, মার্কিন কমান্ডোরা যখন বুঝতে পারছে ওই ক্রু ইরানি বাহিনীর কবলে পড়তে পারেন, তখনই তারা ‘এভিডেন্স’ বা প্রমাণ মুছে ফেলতে এই চরম পথ বেছে নিয়েছে।
ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, রোববার (৫ এপ্রিল) ভোরে ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের আহমদ প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় মার্কিন বিমানগুলো ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি: পেন্টাগন দাবি করছে, তারা ওই এলাকায় একটি বিশেষ ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অপারেশন চালাচ্ছে এবং ড্রোন দিয়ে নিখোঁজ সেনার ৩ কিলোমিটারের মধ্যে আসা যে কোনো হুমকিকে (ইরানি মিলিশিয়া বা সশস্ত্র পুরুষ) লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
ইরানের দাবি: তাসনিম বলছে, আমেরিকা আসলে ওই পাইলটকে উদ্ধার করতে নয়, বরং তিনি যেখানে লুকিয়ে থাকতে পারেন সেই সম্ভাব্য স্থানগুলো ধ্বংস করে তাঁকে মেরে ফেলতে চাইছে। যাতে ইরান তাঁকে ‘যুদ্ধবন্দি’ হিসেবে ব্যবহার করে বড় কোনো রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি তৈরি করতে না পারে।
যেকোনো দেশের সামরিক ইতিহাসে নিজের সেনাকে শত্রু সীমানায় ফেলে আসা বা হত্যা করার চিন্তা করা চরম বিতর্কিত।
স্ক্রিন সেভার কৌশল: ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা সেনার কাছে যদি অত্যন্ত গোপনীয় কোড বা তথ্য থাকে, তবে শত্রু তাঁর নাগাল পাওয়ার আগে তাঁকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার একটি অলিখিত নীতি অনেক দেশের গোয়েন্দা সংস্থার থাকে। তাসনিম ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই পাইলটের কাছে এমন কিছু তথ্য থাকতে পারে যা ফাঁস হলে ওয়াশিংটনের জন্য বড় পরাজয় হবে।
বিপরীত চিত্র: অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ‘WE GOT HIM!’ লিখে দাবি করেছেন যে, তাঁরা ওই সেনাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। ট্রাম্পের মতে, এটি মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম সাহসী উদ্ধার অভিযান।
তাসনিম-এর সামরিক সূত্রটি আরও একটি বড় অভিযোগ তুলেছে—যুক্তরাষ্ট্র নাকি প্রথম পাইলট উদ্ধারের বিষয়েও সম্পূর্ণ সত্য বলছে না।
বিশ্লেষণ: ৩ এপ্রিল প্রথম ক্রু উদ্ধারের সময় একটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ইরাকে জরুরি অবতরণ করেছিল। ইরান দাবি করছে, প্রথম পাইলট উদ্ধার যতটা ‘মসৃণ’ বলা হচ্ছে, বাস্তবে তা ছিল না। হয়তো সেখানেও কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি লুকিয়ে রাখছে পেন্টাগন।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: তাসনিম-এর এই দাবিটি মূলত একটি ‘ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার’-এর অংশ হতে পারে। এর মাধ্যমে ইরান দুটি লক্ষ্য অর্জন করতে চায়—এক, সাধারণ মানুষের মনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা; এবং দুই, ওই এলাকায় মার্কিন বোমাবর্ষণকে ‘বেসামরিক হত্যা’ হিসেবে না দেখিয়ে ‘নিজ সেনাকে হত্যার চেষ্টা’ হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি বিজয় ঘোষণার পর তাসনিম-এর এই দাবি কতটা ধোপে টিকবে, তা নির্ভর করছে উদ্ধারকৃত ক্রুর সুস্থ অবস্থায় ক্যামেরার সামনে আসার ওপর।
| বিষয়ের ক্ষেত্র | ইরানের তাসনিম-এর দাবি | যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের দাবি |
| অভিযানের উদ্দেশ্য | পাইলটকে বোমা মেরে হত্যা করা। | পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করা (সাফল্যের দাবি)। |
| বোমাবর্ষণের স্থান | কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের আহমদ প্রদেশ। | নিখোঁজ সেনার চারপাশের ‘হুমকি’ ধ্বংস করা। |
| প্রথম ক্রু উদ্ধার | সত্য গোপন করা হচ্ছে। | দ্রুত ও সফল উদ্ধার। |
| পুরস্কারের ফলাফল | পাইলট ইরানিদের হাতে পড়ার ভয়ে আমেরিকা ভীত। | ড্রোনের সহায়তায় ৩ কিমি এলাকা নিরাপদ রাখা হয়েছে। |
১. Tasnim News Agency: Exclusive military report on US bombing of potential pilot locations (April 5, 2026).
২. President Trump (X Post): Confirmation of the rescue of the 2nd crew member.
৩. Air & Space Forces Magazine: Technical details of the MQ-9 Reaper drone's role in the rescue.
৪. বিডিএস পলিটিক্যাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার স্টাডি ২০২৬।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |