বিশেষ বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও এনভায়রনমেন্টাল এনালিস্ট)
বিশ্ব জলবায়ুর আকাশে এখন লাল সংকেত। মানুষের কর্মকাণ্ডে পৃথিবী এখন এমন এক ‘জরুরি অবস্থা’র মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব কেবল আমাদের জীবদ্দশায় নয়, বরং আগামী হাজার বছর ধরে বহন করতে হতে পারে। সোমবার (২৩ মার্চ) জেনেভা থেকে প্রকাশিত জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু সংস্থা (WMO)-এর বার্ষিক প্রতিবেদন ‘স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ক্লাইমেট’-এ এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডব্লিউএমও-এর প্রতিবেদনে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে—পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ ১১টি বছরই রেকর্ড করা হয়েছে ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একে ‘কাকতালীয় নয়’ বরং ‘পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মানবজাতি পৃথিবীকে তার সহনশীলতার সীমানার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রথমবারের মতো এই প্রতিবেদনে পৃথিবীর ‘এনার্জি ইমব্যালান্স’ বা শক্তির ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারসাম্যহীনতা: সূর্য থেকে আসা শক্তি এবং পৃথিবী থেকে বেরিয়ে যাওয়া শক্তির অনুপাত সমান থাকছে না।
কারণ: কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব গত ৮ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে তাপ মহাকাশে ফিরে যেতে পারছে না, যা পৃথিবীকে একটি জ্বলন্ত উনুন বানিয়ে ফেলছে।
অতিরিক্ত তাপের ৯১ শতাংশেরও বেশি জমা হচ্ছে সমুদ্রে। এর ফলাফল অত্যন্ত ভয়াবহ:
রেকর্ড উষ্ণতা: ১৯৬০-২০০৫ সময়ের তুলনায় গত ২০ বছরে সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির হার দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
বরফ গলন: অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বরফস্তর আশঙ্কাজনক হারে কমছে। ১৯৯৩ সালের পর থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা গড়ে ১১ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
শক্তিশালী ঝড়: সমুদ্রের এই উষ্ণতা ক্রান্তীয় ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড়গুলোকে আরও শক্তিশালী ও বিধ্বংসী করে তুলছে।
আরও পড়ুন:
আর কত প্রাণ ঝরবে? নদীমাতৃক বাংলাদেশে জীবনের মূল্য কি তবে শুধুই দীর্ঘশ্বাস!
ডব্লিউএমও-এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জন কেনেডি জানিয়েছেন, বর্তমানে পৃথিবী ‘লা নিনা’র প্রভাবে থাকলেও ২০২৬ সালের শেষের দিকে ‘এল নিনো’ ফিরে আসতে পারে। যদি তাই হয়, তবে ২০২৭ সালে বিশ্ব নতুন কোনো তাপমাত্রার রেকর্ড দেখতে পারে, যা আগের সব ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে যাবে।
বিশেষ বিশ্লেষণ:
২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার অফার দিয়েছিল ‘ডিপ স্টেট’: আসিফ মাহমুদের চাঞ্চল্যকর তথ্য!
জলবায়ু পরিবর্তনের এই চিত্র কেবল একটি রিপোর্ট নয়, এটি মানবজাতির অস্তিত্বের সংকট। সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রার এই পরিবর্তন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলতে পারে। এখনই যদি কার্বন নিঃসরণ কমানো না হয়, তবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা এক অবাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাব।
World Meteorological Organization (WMO): State of the Global Climate 2025 Report.
United Nations (UN): Statements by Secretary-General António Guterres.
AFP News Agency: Report on Global Temperature Records.
গুগল এনালাইসিস: গ্লোবাল ওয়ার্মিং ট্রেন্ডস ২০২৬।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |