ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের ঐতিহাসিক বিষয়ে রাজনৈতিক পরিচয় না দেখানোর আহ্বান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান গত রোববার (২ মার্চ) জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বক্তব্যে ঐতিহাসিক বিষয়গুলোর প্রতি রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘ইতিহাস যারা নির্মাণ করেন তারা সকল কিছুর ঊর্ধ্বে।’’ তার মতে, ইতিহাসের প্রকৃত রূপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও পরিচয় থেকে দূরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বক্তব্যে ড. খান আরও বলেন, ‘‘যতই রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হোক না কেন, আমাদের ইতিহাসের প্রতি অগণিত শ্রদ্ধা রাখতে হবে এবং তা সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ইতিহাসের নির্মাতা বা গঠকদের যে কাজ তা পৃথিবী এবং দেশের ভবিষ্যৎকে আলোকিত করার জন্য, তাদের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব।’’ তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের চেয়ে ইতিহাসের গুরুত্ব অনেক বেশি এবং ইতিহাসের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব পড়লে তা জাতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এছাড়া, তিনি দেশ এবং জাতিকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘‘এখনও দেশ ও জাতিকে অস্থিতিশীল করার সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে।’’ তিনি জনগণের মধ্যে একতা ও দেশপ্রেমের উপর জোর দেন এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। ‘‘আমাদের ঐক্য ধরে রাখা একান্ত জরুরি, কারণ ঐক্যহীন জাতি কখনই উন্নতি করতে পারে না।’’ - যোগ করেন তিনি।
বিশেষত, ২ মার্চ জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবসের স্মরণে, উপাচার্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহনকারী ওই দিনের ঘটনাবলি উল্লেখ করেন। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ঐদিন ডাকসুর তৎকালীন ভিপি আ স ম আবদুর রব পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। প্রথম বাংলাদেশী পতাকাটি ছিল সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মধ্যে সোনালি মানচিত্র খচিত।
এই পতাকাটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি শক্তিশালী চিহ্ন এবং তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ছিল জাতির। তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা থেকে লাল বৃত্তের ভেতরের মানচিত্রের অংশ বাদ দেওয়া হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক মূল চেতনা সংরক্ষণ করা।
এদিনের অনুষ্ঠান এবং উপাচার্যের বক্তব্য বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতীয় পতাকার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটি স্মরণ করে দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া, জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিনের অনুষ্ঠানটির মধ্যে দিয়ে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশটি তরুণ প্রজন্মের কাছে পুনরায় তুলে ধরা হয়, যেন তারা ইতিহাসের সঠিক রূপ ও জাতির ঐক্য রক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে।
এই ধরনের ঐতিহাসিক দিবসগুলি জাতিকে তাদের অতীতের গৌরবময় মুহূর্তগুলো মনে করিয়ে দেয় এবং সঠিক ইতিহাস চর্চা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রেরণা প্রদান করে। ড. নিয়াজ আহমদ খান তার বক্তব্যে তাই সকলকে একত্রিত হয়ে, আগামীর পথে ঐতিহাসিক মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |