| বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহু কি বেঁচে আছেন? ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবিতে তোলপাড়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-03-2026 ইং
  • 1731876 বার পঠিত
নেতানিয়াহু কি বেঁচে আছেন? ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবিতে তোলপাড়
ছবির ক্যাপশন: নেতানিয়াহু কি বেঁচে আছেন?

আপনার দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে এবং ১৯৫০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও সংঘাতের ইতিহাস বিশ্লেষণ করে 'বাংলাদেশ প্রতিদিন' ওয়েবসাইটের উপযোগী একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো:


নেতানিয়াহুর ‘মৃত্যু’ নিয়ে ধোঁয়াশা: ইরানের তাসনিম নিউজের দাবিতে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের বারুদে আচ্ছন্ন, আর সেই উত্তাপের মাঝেই নতুন করে ছড়িয়েছে এক বিশাল রহস্য। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন—এমন এক দাবি করেছে তেহরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’। সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের একটি কথিত এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের বরাতে এই তথ্য প্রচার করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল বা নিরপেক্ষ কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এখন পর্যন্ত এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

কী দাবি করছে তাসনিম নিউজ?

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৯ মার্চ, ২০২৬) ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয় এবং সেখানে উপস্থিত থাকা উগ্রপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর গুরুতর আহত হন। তবে এই দাবির পেছনে অকাট্য কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি সংবাদ সংস্থাটি। তারা কিছু পরিস্থিতিগত বিষয় সামনে এনেছে:

  • গত ৭ মার্চের পর থেকে নেতানিয়াহুর কোনো নতুন ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ না পাওয়া।

  • ইসরায়েলি গণমাধ্যমে তার বাড়ির চারপাশে নজিরবিহীন নিরাপত্তার খবর।

  • জ্যারেড কুশনার ও মার্কিন দূতের নির্ধারিত সফর রহস্যজনকভাবে স্থগিত হওয়া।

১৯৫০ থেকে ২০২৬: ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের ঐতিহাসিক রূপরেখা

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে তিক্ততা নয়, বরং এক ধরণের অলিখিত মৈত্রীর সম্পর্ক ছিল। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পর ১৯৫০ সালে ইরান দ্বিতীয় মুসলিম দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের সময়ও তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে গোয়েন্দা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল।

তবে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সেই সম্পর্ক চিরস্থায়ী শত্রুতায় রূপ নেয়। নব্বইয়ের দশকের পর থেকে শুরু হওয়া ছায়াযুদ্ধ (Shadow War) ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশের’ সময়কালে এসে এক সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের এই বর্তমান সংঘাত মূলত সাত দশকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ। ১৯৫০ সালে যারা ছিল আঞ্চলিক সহযোগী, ২০২৬ সালে তারা একে অপরের অস্তিত্ব মেটাতে মরণপণ লড়াইয়ে লিপ্ত।

গুজব না কি গোপন বাস্তবতা?

এর আগেও ২ মার্চ ইরানি গণমাধ্যমগুলো নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর প্রচার করেছিল, যা পরবর্তীতে গুজব প্রমাণিত হয়। সিনহুয়াসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এবারের খবরটিকেও ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ’ হিসেবে দেখছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শেষ বিবৃতি এসেছিল ৭ মার্চ, যেখানে নেতানিয়াহু বিরশেবা এলাকায় ইরানি হামলায় আহতদের দেখতে গিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, স্কট রিটারের নামে যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে, সেটির সত্যতা নিশ্চিত না হওয়ায় এই খবরটি বড় ধরণের গুজব হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ নীরবতা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।


সুত্র: ১. তাসনিম নিউজ এজেন্সি (Tasnim News Agency) ও স্কট রিটার কথিত এক্স পোস্ট (০৯ মার্চ ২০২৬)।

২. সিনহুয়া (Xinhua) ও আল জাজিরা ইন্টারন্যাশনাল মনিটরিং সেল।

৩. জাতীয় আর্কাইভস: মধ্যপ্রাচ্যের সাত দশকের কূটনৈতিক বিবর্তন (১৯৫০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency