ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য: "ইতিহাসের নির্মাতারা সকল কিছুর ঊর্ধ্বে" - জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবসে ইতিহাসের গুরুত্ব ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেছেন, ঐতিহাসিক বিষয়ে রাজনৈতিক পরিচয় দেখা উচিত নয়, কারণ যারা ইতিহাস নির্মাণ করেন, তারা সকল কিছুর ঊর্ধ্বে। তিনি মনে করেন, ইতিহাসের ঘটনাগুলো রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার করা উচিত, যাতে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি রক্ষা করা যায়।
রোববার (২ মার্চ) জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী কলা ভবনের সামনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
১৯৭১ সালের ২ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। তখনকার ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রব পতাকাটি উত্তোলন করেন। সে সময় পতাকাটির নকশা ছিল সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্ত এবং বৃত্তের মধ্যে সোনালি রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত। পরে স্বাধীনতার পর জাতীয় পতাকা থেকে মানচিত্রের অংশটি বাদ দেওয়া হয়, যা বর্তমানে প্রচলিত জাতীয় পতাকার রূপ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাই ২ মার্চের পতাকা উত্তোলনের ঘটনাটিও ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, “আমাদের জাতীয় ইতিহাস গর্বের এবং ত্যাগের ইতিহাস। এই ইতিহাস আমাদের পরিচয়ের অংশ, তাই এটি নিয়ে বিভাজন নয়, বরং ঐক্য প্রয়োজন। আমাদের মনে রাখতে হবে, এখনো দেশ ও জাতিকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চলছে। সুতরাং, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্র-শিক্ষকের দায়িত্ব রয়েছে ইতিহাসের সত্যতা রক্ষা করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরা।”
জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আয়োজন করা হয়। সকালে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পতাকা উত্তোলন এবং স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষকরা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস আমাদের গর্বের দিন। এটি আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই দিনটির কথা আমরা কখনো ভুলবো না।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, “একটি জাতির জন্য ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের ঐতিহ্য বহন করে এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দেয়। তাই ইতিহাসের বিকৃতি রোধ করে সঠিক তথ্য প্রচার করা সবার দায়িত্ব।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |