| বঙ্গাব্দ

তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে মুশফিকুল ফজল আনসারীর বিস্ফোরক স্ট্যাটাস ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 22-02-2026 ইং
  • 2012526 বার পঠিত
তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে মুশফিকুল ফজল আনসারীর বিস্ফোরক স্ট্যাটাস ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে মুশফিকুল ফজল আনসারীর বিস্ফোরক স্ট্যাটাস

পররাষ্ট্র দপ্তরে অস্থিরতা: তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে নির্বাচিত সরকারে উত্তরণের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা প্রকাশ পেয়েছে। মেক্সিকোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রখ্যাত সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, তৌহিদ হোসেন শুরু থেকেই তার পেশাদার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এসেছেন।

১৯০০ থেকে ২০২৬: কূটনৈতিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা

বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকেই আমলাতন্ত্র ও রাজনীতির মধ্যে এক জটিল সম্পর্ক বিদ্যমান। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে আমাদের কূটনীতিকরা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু গত কয়েক দশকে কূটনৈতিক পদায়নে ‘দলীয়করণ’ ও ‘ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ’ একটি অপসংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছে।

বিংশ শতাব্দীর ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের এই দীর্ঘ পথচলায় দেখা গেছে, যখনই নতুন সরকার আসে, তখনই আগের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি শুরু হয়। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল, ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে মুশফিকুল ফজল আনসারীর এই অভিযোগ সেই সংস্কার প্রক্রিয়ার অন্দরমহলের কিছু অস্বস্তিকর সত্য সামনে নিয়ে এল।

জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

মুশফিকুল ফজল আনসারী জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদে আবেদনের জন্য তিনি সরকারপ্রধান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সম্মতি পেয়েছিলেন। কিন্তু পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন প্রথমে সবুজ সংকেত দিলেও পরে রহস্যজনকভাবে তাকে ‘not to proceed’ বা অগ্রসর না হতে বার্তা পাঠান। এমনকি এরপর থেকে তৌহিদ হোসেন তার ফোন ধরাও বন্ধ করে দেন। মুশফিকের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও নিজ দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের অসহযোগিতার কারণে তিনি প্রাপ্য সমর্থন পাননি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া

মুশফিকুল ফজল আনসারী তার পোস্টে উল্লেখ করেন, এই বঞ্চনার কথা তিনি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও জানিয়েছিলেন, যা শুনে প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়াও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল যে ‘মুশফিক জিততে পারবে না’। অথচ জাতিসংঘের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ভোটাভুটির নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

তোষামোদ ও সত্য প্রকাশের অঙ্গীকার

সবশেষে তিনি একটি বই লিখছেন জানিয়ে লেখেন, “দুর্ভাগ্য আমার—নিজ দেশের সমর্থনটাই জোটেনি। আজ দেখছি কেউ কেউ নির্বাচিত সরকারের চারপাশে তোষামোদে ব্যস্ত, অথচ তারাই একসময় বিএনপির নাম শুনলে নাক সিটকাতেন। সময় এলে সত্য প্রকাশ পাবে।”


রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজলের প্রধান ৩টি অভিযোগ (একনজরে)


সূত্র: ১. রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ২. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী দপ্তর সংক্রান্ত তথ্য। ৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাস ও আমলাতান্ত্রিক বিবর্তন দলিল। ৪. সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও জাতিসংঘ নিয়োগ নীতিমালা।


বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন রাষ্ট্রদূতের এমন প্রকাশ্য অভিযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯০০ সালের সেই পরাধীন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে ২০২৬ সালের এই স্বাধীন বাংলাদেশে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তৌহিদ হোসেন বনাম মুশফিকুল ফজলের এই দ্বন্দ্ব প্রমাণ করে যে, আমলাতন্ত্রের গভীরে এখনো পেশাদারিত্বের চেয়ে ব্যক্তিগত ইগো বা অদৃশ্য স্বার্থ কাজ করছে। এটি বর্তমান তারেক রহমান সরকারের পররাষ্ট্র নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency