| বঙ্গাব্দ

একুশের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আহ্বান জিএম কাদেরের: ১৯০০-২০২৬ প্রেক্ষাপট

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-02-2026 ইং
  • 1846743 বার পঠিত
একুশের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আহ্বান জিএম কাদেরের: ১৯০০-২০২৬ প্রেক্ষাপট
ছবির ক্যাপশন: একুশের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আহ্বান জিএম কাদেরের

একুশের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশের ডাক: ১৯০০-২০২৬; ইতিহাসের আবর্তে জিএম কাদেরের আহ্বান

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে এই জনপদে যে ভাষাতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চেতনার বীজ বপন করা হয়েছিল, তা ১৯৫২-এর রক্তঝরা পথ পেরিয়ে ২০২৬ সালের আধুনিক বাংলাদেশে এক নতুন সমীকরণে এসে দাঁড়িয়েছে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এক বিবৃতিতে বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন। তাঁর এই আহ্বান কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং ১২৬ বছরের এক দীর্ঘ সংগ্রামের নির্যাস।

১৯০০ - ২০২৬: ভাষার লড়াই থেকে রাষ্ট্র সংস্কার

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০০-এর দশকে যখন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে, তখন থেকেই এই অঞ্চলের মানুষ নিজেদের আত্মপরিচয় নিয়ে সচেতন হতে শুরু করে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে ভ্রুণ তৈরি হয়েছিল, তা পূর্ণতা পায় ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি। জিএম কাদের তাঁর বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৫২ সালে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণই ছিল আধুনিক বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম সোপান। যার ফলে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিল।

বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে ‘বৈষম্যহীনতা’ শব্দটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। জিএম কাদের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “আসুন—মহান একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচারভিত্তিক সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হই।” ১৯০০ সালের সেই জমিদারি বৈষম্য থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক বিভাজন—সবই কাটিয়ে ওঠার জন্য তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন।

জিএম কাদেরের শপথ ও জাতীয় পার্টির অবস্থান

বিবৃতিতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান। ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে, যেখানে তারেক রহমানের সরকার প্রটোকল ভেঙে জনসেবার কথা বলছে, সেখানে জিএম কাদেরের এই ঐক্যের ডাক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯০০ সালের সেই রেনেসাঁ বা নবজাগরণের মতো ২০২৬ সালেও একুশের চেতনা যেন এক নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের পথ দেখায়—এটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

বিশ্লেষণ

জিএম কাদেরের এই আহ্বান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৫২ সালের আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল ‘অধিকার আদায়’। ২০২৬ সালে এসে সেই অধিকার আদায়ের লড়াইটি এখন ‘সুশাসন’ ও ‘ন্যায়বিচার’-এর দিকে মোড় নিয়েছে। ১৯০০ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ ১২৬ বছরে ভাষার মর্যাদা আমরা রক্ষা করেছি, কিন্তু জিএম কাদেরের ভাষ্যমতে, একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার যে স্বপ্ন শহীদরা দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন বর্তমান প্রজন্মের।


সূত্র: জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ঐতিহাসিক গেজেট (১৯৫২) এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের ২১শে ফেব্রুয়ারির বিশেষ সংখ্যা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency