প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদের পতন পর্যন্ত শাসনব্যবস্থায় এক ধরনের ‘ভিআইপি কালচার’ বা রাজকীয় প্রথা বিদ্যমান ছিল। তবে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই পুরনো ধাঁচ ভেঙে এক নতুন ধারার সূচনা করেছেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি প্রটোকল বর্জন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা ১২৬ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন উদাহরণ।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে ব্রিটিশ বড়লাটদের চলাচলে যে কঠোর নিরাপত্তা ও জাঁকজমক ছিল, পরবর্তীকালে পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশেও সেই ‘প্রটোকল সংস্কৃতি’ বজায় ছিল। রাজপথ বন্ধ করে জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের যে প্রথা ১৯০০ সাল থেকে চলে আসছিল, ২০২৬ সালে এসে তারেক রহমান তা আমূল বদলে দিলেন। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার এক শক্তিশালী রাজনৈতিক দর্শন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এবং পরবর্তী বিভিন্ন কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি জনকল্যাণমূলক বেশ কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা এখন টক অফ দ্য কান্ট্রি:
নিজস্ব বাহন ও জ্বালানি: তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে সরকারি গাড়ি, চালক ও জ্বালানি ব্যবহার না করে নিজস্ব সাদা টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো এবং ব্যক্তিগত চালক ব্যবহার করছেন। এমনকি জ্বালানি খরচও তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করছেন।
প্রটোকল হ্রাস: প্রধানমন্ত্রীর বহরে আগে যেখানে ১৩-১৪টি গাড়ি থাকতো, বর্তমানে তা কমিয়ে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সড়ক ও পুলিশি প্রথা বাতিল: তাঁর চলাচলের সময় সড়কের দুই পাশে পুলিশের সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার প্রথাটি বাতিল করা হয়েছে, যাতে পুলিশ সদস্যরা তাদের মূল দায়িত্ব অর্থাৎ জননিরাপত্তায় বেশি সময় দিতে পারেন।
জাতীয় পতাকার ব্যবহার: রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া সাধারণ চলাচলের সময় গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি, যা একজন সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব কমিয়ে এনেছে।
সচিবালয়ে ক্যাবিনেট বৈঠক: জনভোগান্তি কমাতে এবং প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে অধিকাংশ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়েই মন্ত্রিসভার বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শনিবারও অফিস: প্রশাসনের স্থবিরতা কাটাতে তিনি সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারেও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সালের সামন্ততান্ত্রিক আমলের যে মানসিকতা এতদিন প্রশাসনে জেঁকে বসেছিল, তারেক রহমানের এই পদক্ষেপগুলো তা চূর্ণ করে দিয়েছে। ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি প্রমাণ করছেন যে, ক্ষমতার উৎস কেবল ব্যালট বাক্স নয়, বরং জনগণের ভালোবাসা ও সেবা। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার যে কঠোর বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সংসদীয় সংস্কৃতিতে এক স্বচ্ছতার নজির হয়ে থাকবে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), যুগান্তর অনলাইন (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), প্রথম আলো এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের ব্রিফিং।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারেক রহমানের এই উদ্যোগগুলো কেবল প্রতীকী নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক সংস্কারের অংশ। ১৯০০ সালের সেই শাসক বনাম শাসিত সম্পর্কের বিপরীতে ২০২৬ সালে এক ‘সেবক প্রধানমন্ত্রী’র আবির্ভাব ঘটেছে। এটি দেশের অর্থনীতিতে ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনে গতিশীলতা আনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে রাষ্ট্রকাঠামো সম্পর্কে আস্থার জায়গা তৈরি করছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |