প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির ও প্রখ্যাত আলেমে দীন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আজ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে এক নজিরবিহীন ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশের মাঝেই সশরীরে হাজির হন অভিযুক্ত নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে তিনি তার বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে আলেম সমাজের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ধর্মীয় নেতাদের একাংশের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানেও কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ও আলেমদের বিশাল আত্মত্যাগ এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম দেয়। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত সময়ে দেখা গেছে, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে যে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, যিনি হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব দিয়ে এ দেশের রাজনীতি ও ধর্মীয় অঙ্গনে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন, তাকে নিয়ে করা মন্তব্যকে তাই সহজভাবে নেয়নি তার অনুসারীরা।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কিছু বক্তব্য শনিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। হেফাজত সংশ্লিষ্টদের দাবি, সেই বক্তব্যে বাবুনগরীকে নিয়ে মিথ্যাচার ও কটূক্তি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে রোববার বিকেলে ‘আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী স্মৃতি সংসদ’ বিক্ষোভের ডাক দেয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েব আমির আজম খান, হেফাজত নেতা মাওলানা শরীফুল্লাহ, মাওলানা রাশেদ বিন এবং পল্টন জোনের সেক্রেটারি মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী। বক্তারা যখন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কঠোর সমালোচনা করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলছিলেন, ঠিক তখনই মসজিদের ভেতর থেকে কয়েকজন কর্মী নিয়ে সমাবেশে হাজির হন নাসীরুদ্দীন নিজেই।
নাসীরুদ্দীনের আকস্মিক উপস্থিতিতে সমাবেশস্থলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আয়োজকরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে মিছিল শুরু করেন। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
এরপর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, "আমার কথায় বা আচরণে যারা মনঃকষ্ট পেয়ে থাকেন, তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ করছি।" উল্লেখ্য, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনের একাদশ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং কয়েকদিন আগেই তিনি নির্বাচনি প্রচারণায় "সংসদে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার" আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
আজকের দিনটি ছিল বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসের অন্যতম ব্যস্ততম দিন:
বিকেল ৪:১৮: কুমিল্লা-৭ আসনে রেদোয়ান ও শাওনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস।
বিকেল ৫:০০: বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করীম।
বিকেল ৫:৫৬: ঠাকুরগাঁওয়ে ভ্যানে চড়ে প্রচারণা চালান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
সন্ধ্যা ৭:০০: বিটিভিতে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সংস্কারমুখী ভাষণ সম্প্রচারিত হয়।
বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে আলেম সমাজের সাথে এই বিরোধ এনসিপির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দেখা গেছে, ধর্মীয় আবেগকে অবজ্ঞা করা যে কোনো দলের জন্যই বড় ঝুঁকি। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দ্রুত ও সশরীরে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
সূত্র: বাসস, এনসিপি মিডিয়া সেল, হেফাজত সংশ্লিষ্ট প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং ২০২৬ নির্বাচনের মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |