প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
মদন-মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এখন টালমাটাল নেত্রকোনা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) আসন। নির্বাচনের প্রতিটি দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, হাওরবেষ্টিত এই জনপদে রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটি নিয়ে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে— ‘নেত্রকোনা-৪ আসনে যে দলের প্রার্থী জয়ী হয়, সেই দলই দেশ শাসন করে’। বিগত ১২টি সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফল এই ধারাবাহিকতাকে প্রমাণ করেছে। এবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে কি না, তা নিয়ে চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে গ্রামের হাটে-বাজারে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
নেত্রকোনার এই হাওর অঞ্চলের রাজনীতি ব্রিটিশ আমল থেকেই উত্তাল। ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় থেকেই এই জনপদের মানুষ অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যুক্ত ছিল। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে মদন-মোহনগঞ্জের মানুষের অসামান্য অবদান রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনে প্রধানত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে লড়াই সীমাবদ্ধ থাকলেও, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পুরো দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল—এই দীর্ঘ সময়যাত্রায় এই আসনে লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রত্যাবর্তন এবং জামায়াতের নতুন উত্থান এক অন্যরকম রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।
নেত্রকোনা-৪ আসনটি দীর্ঘকাল ধরেই সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি) এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে জয়লাভ করেছিলেন। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবরণ শেষে ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে তার ফেরা সাধারণ ভোটারদের মাঝে এক প্রবল আবেগের জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনি পথসভায় বাবর বলছেন, "এই দ্বিতীয় জীবন আমার আখেরাত ও জনগণের জন্য। আমি মাদক ও জুয়া মুক্ত নেত্রকোনা গড়তে চাই।" বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামানও স্বামীর পক্ষে দিনরাত প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন জামায়াত ইসলামীর মো. আল-হেলাল তালুকদার (দাঁড়িপাল্লা)। ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের এই নেতার গণসংযোগ ও 'ডোর টু ডোর' ক্যাম্পিং নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তিনি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও বন্ধ থাকা মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ লোকাল ট্রেন পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের নজর কাড়ছেন। এছাড়াও ১১ দলীয় জোটের পক্ষে এনসিপির হয়ে নাহিদ ইসলামের সমর্থনেও কাজ করছেন অনেকে।
অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুখলেছুর রহমান (হাতপাখা), সিপিবির জলি তালুকদার (কাস্তে) এবং বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির চম্পা রানী সরকার (কোদাল) মাঠে থাকলেও বাবর-হেলাল লড়াইয়ের কাছে তাদের প্রচারণা কিছুটা ম্লান।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার ৩১২ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮২ জন নারী ভোটার। ১৪৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪০টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আজ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল:
বিকেল ৫:০০: চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করীম বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।
বিকেল ৫:৫৬: ঠাকুরগাঁওয়ে ভ্যানে চড়ে প্রচার চালান মির্জা ফখরুল।
সন্ধ্যা ৭:০০: বিটিভিতে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বিশেষ ভাষণ সম্প্রচারিত হয়।
রাত ৮:২৩: নির্বাচন স্থগিতের গুজব ছড়ানোর দায়ে ইসির কঠোর হুঁশিয়ারি।
বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লুৎফুজ্জামান বাবরের কারাবাস এবং তার প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি এবারের নির্বাচনের প্রধান নিয়ামক হতে পারে। তবে জামায়াতের সুশৃঙ্খল ভোট ব্যাংক ও তরুণ প্রজন্মের 'কাঠামো পরিবর্তনের' আকাঙ্ক্ষা এই আসনে বড় ধরনের চমক দেখাতে পারে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেত্রকোনা-৪ এর ভোটাররা এবার কাকে বেছে নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশের শাসনভার।
সূত্র: বাসস, নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন অফিস, বিএনপি ও জামায়াত মিডিয়া উইং এবং উইকিপিডিয়া (২০২৬ সংকলন)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |