নতুন সরকার মানেই অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: মেঘনায় ড. খন্দকার মারুফ হোসেন
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
মেঘনা (কুমিল্লা): ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই বাংলার রাজনীতিতে অধিকার আদায়ের লড়াই বিদ্যমান। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে জাতির এক নতুন সূর্যোদয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনে ধানের শীষের গণজোয়ার আগামীর নতুন বাংলাদেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের টিটির চর, বুড়িয়াকান্দি, রামপ্রসাদের চর ও নলচরে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি কুমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ করেন।
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, "আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হবে। তারেক রহমান তার প্রণীত ‘নতুন বাংলাদেশে’ সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ এবং অসহায় মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এছাড়া কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য অবারিত করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "বিএনপি হচ্ছে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার শেষ ভরসাস্থল। এই দল ক্ষমতায় থাকলে দেশের সার্বভৌমত্ব নিরাপদ থাকে এবং জনগণ ভালো থাকে। কিন্তু একটি অশুভ শক্তি ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।"
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে যখন স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন দানা বাঁধছিল, তখন থেকেই কুমিল্লার মানুষ স্বাধিকার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে জনমত গঠনে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
স্বাধীনতার ৫৪ বছরে (১৯৭১-২০২৫) এবং তার আগের ২৩ বছরে (পাকিস্তান আমল) মিলিয়ে গত ৭৭ বছরের পথপরিক্রমায় বারবার গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে। ১৯৯১, ১৯৯৬ (জুন) ও ২০০১-এর নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে বিএনপি যে উন্নয়নের ধারা শুরু করেছিল, ২০২৪-এর বিপ্লবের পর ২০২৬-এর এই নির্বাচনে সেই ধারার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
খন্দকার মারুফ হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, "বিএনপি যখনই ক্ষমতায় ছিল, গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করেছে। অপরদিকে অন্যরা ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশ ধ্বংস করেছে। একারণেই জনগণ ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।"
এ সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গোলাম মস্তোফা, সদস্য সচিব মো. আলতাফ মাহমুদ এবং স্থানীয় অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা কুমিল্লা-১ আসনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বিপুল ভোটে জয়ী করার অঙ্গীকার করেন।
১৯০০ সালের সেই ব্রিটিশ বিরোধী চেতনা থেকে ২০২৬-এর ‘তারুণ্যের বাংলাদেশ’—সবখানেই মূল দাবি ছিল ভোট ও ভাতের অধিকার। কুমিল্লা-১ আসনের এই বিশাল গণসংযোগ প্রমাণ করে যে, সাধারণ ভোটাররা এখন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও গণতান্ত্রিক সুশাসনের পক্ষে। ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধই নির্ধারণ করবে মেঘনা-দাউদকান্দির আগামীর দিনগুলো কতটা নিরাপদ হবে।
সূত্র: যুগান্তর, বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর ও মেঘনা উপজেলা প্রতিনিধি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |