প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: পরিবার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি
বাংলাদেশের পরমাণু বিজ্ঞান ও শিক্ষাবিস্তারের অগ্রপথিক, বাংলাদেশের প্রথম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. এম শমশের আলী আর নেই।
শনিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্রসহ অসংখ্য ছাত্র-অনুরাগী রেখে গেছেন।
তাঁর বড় ছেলে জেহান আলী গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ড. এম শমশের আলী জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৭ সালের ২১ নভেম্বর, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়।
তাঁর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা হয় যশোর জেলা স্কুলে (ম্যাট্রিক: ১৯৫৪), এবং রাজশাহী কলেজ থেকে আইএসসি (১৯৫৬)। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে, সেখান থেকে ১৯৫৯ সালে অনার্স এবং ১৯৬০ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক:
১৯৬১: যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থিওরেটিক্যাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স–এ পিএইচডি অর্জন
একই বছরে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কেন্দ্রে সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু
১৯৭০–১৯৭৮: বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের পরিচালক
ড. শমশের আলীর অবদান শুধু বিজ্ঞানেই সীমাবদ্ধ ছিল না — তিনি ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য (১৯৯২)। এটি ছিল দেশের প্রথম ও একমাত্র দূরশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। তাঁর নেতৃত্বেই দেশের হাজারো প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছাতে শুরু করে।
এর আগে ও পরে তিনি:
১৯৮২: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদে যোগদান
২০০২–২০১০: সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য
২০০৪–২০১২: বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি
ড. শমশের আলী ১৯৭৫–২০০০ সময়কালে ছিলেন সেই বিরল শিক্ষাবিদদের একজন, যিনি বলেছিলেন—
“একটি দেশের উন্নয়ন হবে তখনই, যখন বিজ্ঞান হবে জাতীয় পরিকল্পনার মেরুদণ্ড।”
তিনি শুধু পদার্থবিজ্ঞানে নয়, গণতান্ত্রিক শিক্ষা, গবেষণা সংস্কৃতি, ও পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছিলেন।
ড. আলী ছিলেন—
বাংলা একাডেমির ফেলো
বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির আজীবন সদস্য
American Physical Society–এর সক্রিয় সদস্য
এছাড়া তিনি বহু আন্তর্জাতিক সেমিনার ও বৈজ্ঞানিক কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা ১৯৭০–৮০-এর দশকে আমাদের দেশের বৈজ্ঞানিক পরিচিতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
ড. এম শমশের আলী বাংলাদেশে পরমাণু শক্তি, বিজ্ঞানশিক্ষা, এবং গণমাধ্যমে বিজ্ঞান প্রসার–এই তিনটি ক্ষেত্রে যেভাবে পথ তৈরি করেছেন, তা আজো আমাদের বিজ্ঞান-নীতি নির্ধারকদের জন্য এক অনুপ্রেরণা।
যখন ২০০০ সালের পর বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বুম শুরু হয়, তখনও তিনি বলেছিলেন:
“বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু বিল্ডিং নয়; গবেষণা, নৈতিকতা ও জ্ঞান বিনিময়ের জায়গা।”
দুঃখজনকভাবে, এতবড় একজন পরমাণু বিজ্ঞানীর প্রয়াণে এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা কিংবা বিশেষ জাতীয় সম্মাননার খবর নেই। তবে শিক্ষা ও গবেষণার মহলে এই মৃত্যু এক শূন্যতার প্রতীক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অনুসারীরা।
বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষার যে প্রজন্ম আজ বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করছে, সেই বীজ বপনকারীদের একজন ছিলেন ড. এম শমশের আলী।
তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয় — ক্ষতিগ্রস্ত হলো একটি দেশ, একটি প্রজন্ম, এবং একটি সম্ভাবনার দিগন্ত।
সূত্র:
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক রেকর্ড
বিজ্ঞান একাডেমি প্রেস বিজ্ঞপ্তি (২০২৫)
ড. জেহান আলীর পারিবারিক বিবৃতি
BBC Bangladesh Science Archive (1980–2015)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |