বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৬ সালের নির্বাচনী হাওয়া এখন তুঙ্গে। সংস্কার বনাম নির্বাচনের বিতর্কের মাঝেই নতুন মেরুকরণ দেখা দিচ্ছে রাজপথে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন। বিশেষ করে সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিচারিতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নিয়ে তার ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ সাল) এই ভূখণ্ডের মানুষ স্বাধিকার ও স্বচ্ছতার জন্য লড়াই করে আসছে। কিন্তু ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং সবশেষে ২০২৪-এর ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, "আমরা সরকার গঠন করলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সব শহীদ হত্যার বিচার করব।"
পথসভায় আসিফ মাহমুদ একটি বড় রাজনৈতিক দলের দ্বিমুখী অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, "সংস্কারের প্রশ্নে এতদিন কিছু না বললেও এখন একটি দলের প্রধান ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন। অথচ তাদের কর্মীরা চাইছে ‘না’ ভোট।" তিনি কর্মীদের এই গোপনে ভোট চাওয়ার প্রবণতাকে ‘গুপ্ত’ কাজ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, যারা এভাবে পেছনে কাজ করছে তাদের চিহ্নিত করার সময় এসেছে।
দুর্নীতি দমনে এনসিপি’র এক যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, "আমরা ক্ষমতায় গেলে ‘হিসাব দাও’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করব। এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়-ব্যয়ের হিসাব সরাসরি জনগণের কাছে প্রকাশ করা হবে।" নিজের স্বচ্ছতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, উপদেষ্টা পদ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তিনি সরকারি বাড়ি, খাট ও ম্যাট্রেস পর্যন্ত ফেরত দিয়ে এসেছেন।
ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, "ভারত আমাদের তিন দিক থেকে ঘিরে রাখা বড় প্রতিবেশী হতে পারত, কিন্তু তারা আমাদের ছোট প্রতিবেশী হিসেবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে।" এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১১ দলীয় ঐক্য জোট সরকার গঠন করলে যুবকদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা এবং সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন তিনি।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সংস্কার কাজের প্রশংসা করলেও আসিফ মাহমুদ একটি ঐতিহাসিক ভুলের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "জিয়াউর রহমান শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে যে ভুল করেছিলেন, তার খেসারত বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়িছাড়া হয়ে এবং দেশের মানুষকে নির্যাতন সহ্য করে দিতে হয়েছে।" একইসাথে তারেক রহমানের কৃষক ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, "২০০১ সালেও তারা একই কথা বলেছিল কিন্তু কথা রাখেনি।"
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপি’র মনিরা শারমিন, কামরুজ্জামান বাবলু এবং জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ হোসনে মোবারক বাবুল। বক্তারা বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে দেশের মানুষ আর কোনো স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থান দেখতে চায় না। যদি কেউ আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে ছাত্র-জনতা তা কঠোরভাবে রুখে দেবে।
ঘাটাইল উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই পথসভা প্রমাণ করে যে, ২০২৬-এর নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় লড়াই। আসিফ মাহমুদের এই ঘোষণাগুলো ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), প্রথম আলো আর্কাইভ (জানুয়ারি ২০২৬), টাঙ্গাইল প্রতিনিধি সংবাদ এবং এনসিপি মিডিয়া সেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |