| বঙ্গাব্দ

এনসিপির ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা: তারুণ্য ও মর্যাদার বাংলাদেশ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-01-2026 ইং
  • 2323412 বার পঠিত
এনসিপির ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা: তারুণ্য ও মর্যাদার বাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশন: এনসিপি

তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’: ৩৬ প্রতিশ্রুতি নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এনসিপির চমক

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ ও তারুণ্যের জয়গান গেয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম এই শরিক দলটি ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ শিরোনামে ৩৬টি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের লা ভিতা হলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

৩৬ দফার মূল আকর্ষণ: দারিদ্র্য বিমোচন ও তারুণ্যের কর্মসংস্থান

এনসিপির এবারের ইশতেহারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর। ইশতেহারে নাজুক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। ৩৬টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

  • বেকারত্ব নিরসন: শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকার ভাতা চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা।

  • দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা খাতে জিডিপির বড় অংশ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি।

  • সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক গোষ্ঠী: পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি।

কূটনৈতিক ও সুশীল সমাজের সরব উপস্থিতি

ইশতেহার ঘোষণার এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন, যা এনসিপির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে হলরুম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। এনসিপি নেতারা দাবি করেন, এই ইশতেহার শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ গঠনের একটি রোডম্যাপ।

১৯০০ থেকে ২০২৬: রাজনীতির গতিপথ ও প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই এ অঞ্চলের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর স্বাধীনতা এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—প্রতিটি ঘটনাই রাষ্ট্র সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে।

২০২৫ সালে গঠিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এনসিপির এই ৩৬ দফার ইশতেহার মূলত ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা শোষণের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের এক আধুনিক ও মর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

নেতাদের বক্তব্য

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমরা এমন এক রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করতে চাই যেখানে ক্ষমতা আর কোনো একক গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত থাকবে না। ৩৬ দফার এই ইশতেহার হবে সাধারণ মানুষের মুক্তির সনদ।" মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, "তারুণ্যের শক্তিতেই আমরা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত ও টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলব।"


সূত্র: এনসিপি মিডিয়া সেল, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬ বিষয়ক বিশেষ বুলেটিন।

বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই ৩৬ দফার ইশতেহার মূলত তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার একটি শক্তিশালী কৌশল। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে। জোটগত রাজনীতির সমীকরণে এই ইশতেহার কতটুকু কার্যকর হয়, তা নির্বাচনের ফলাফলেই প্রতিফলিত হবে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency