| বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি-চাঁদাবাজি করলে পুলিশে ধরিয়ে দিন: সালথায় শামা ওবায়েদের নির্বাচনি বার্তা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-01-2026 ইং
  • 2301225 বার পঠিত
দুর্নীতি-চাঁদাবাজি করলে পুলিশে ধরিয়ে দিন: সালথায় শামা ওবায়েদের নির্বাচনি বার্তা
ছবির ক্যাপশন: শামা ওবায়েদ

বিএনপির কেউ দুর্নীতি-চাঁদাবাজি করলে পুলিশে ধরিয়ে দিন': সালথায় শামা ওবায়েদ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনের হাওয়া এখন বইছে উত্তপ্ত। এর মাঝেই এক ভিন্নধর্মী ও সাহসি রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে জনগণের মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের জয়ঝাপ মাঠে এক নির্বাচনি উঠান বৈঠকে তিনি ঘোষণা দেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রশ্নে তাঁর পরিবার বা দলের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

শামা ওবায়েদ বলেন, "দল আমাকে শিক্ষা দিয়েছে দুর্নীতিকে 'না' বলতে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজি—এসব অপকর্মের স্থান বিএনপিতে নেই। এমনকি আমার পরিবার বা বিএনপির কেউ যদি এ ধরনের অপরাধে লিপ্ত হয়, তবে তাকে সরাসরি পুলিশে ধরিয়ে দিতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের পকেট কেটে যারা রাজনীতি করতে চায়, তাদের সালথা-নগরকান্দার মাটিতে কোনো জায়গা হবে না।

পারিবারিক ঐতিহ্য ও বাবার ঋণ

নিজের বাবা সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির এক সময়ের ডাকসাইটে মহাসচিব প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আমার বাবা মানুষের সেবা করে গেছেন। তিনি কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ বা ব্যাংক ব্যালেন্স তৈরি করেননি, বরং ব্যাংকে দেনা রেখে মারা গেছেন।" বাবার সেই নিঃস্বার্থ সেবার উত্তরাধিকার বহন করেই তিনি জনগণের পাশে থাকতে চান। উল্লেখ্য, কে এম ওবায়দুর রহমান ১৯৬২-র ডাকসু জিএস এবং স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক হিসেবে এই অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে আজও শ্রদ্ধার আসনে রয়েছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এ অঞ্চলের মানুষের মূল চাওয়া ছিল মুক্তি ও ন্যায়বিচার। কে এম ওবায়দুর রহমান ছাত্রাবস্থায় ১৯৬৪ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে কারাবরণ করেছিলেন। ১৯৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেন, সেই ধারাকেই এখন নতুন রূপ দিতে চাচ্ছেন শামা ওবায়েদ।

গত ১৭ বছর ধরে এ দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, "এবার উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ ভোট দেবে। ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়ী করে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।" ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এই ২০২৬ সালের নির্বাচনে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী, যেখানে স্বচ্ছতা ও জিরো টলারেন্স নীতিই হবে মূল চালিকাশক্তি।

শান্তি ও ঐক্যের আহ্বান

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "আমার বড় ধর্ম হলো সৎ পথে থাকা এবং মানুষের সেবা করা।" তিনি নেতা-কর্মীদের কোনো ধরনের মারামারি বা সংঘর্ষে না জড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।

বৈঠকটি সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুছ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সালথার প্রতিটি গ্রামে ধানের শীষের সমর্থনে এখন যে জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এই জনপদের জন্য এক ঐতিহাসিক বাঁক হতে পারে।


সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, সালথা প্রতিনিধি রিপোর্ট, কে এম ওবায়দুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত (বাংলাপিডিয়া) এবং স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়।


বিশ্লেষণ

শামা ওবায়েদ ইসলামের এই বক্তব্য মূলত ২০২৬ সালের 'নতুন বাংলাদেশের' রাজনীতির প্রতিফলন। যেখানে দলগুলো এখন আর কেবল প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করছে না, বরং নিজেদের ভেতরের দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকারও করছে। তার এই 'পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া'র হুঁশিয়ারি সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থার জায়গা তৈরি করেছে, যা ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা প্রথাগত রাজনীতির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency