জুলাই গণহত্যা: বিটিভির আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার দাবি
প্রতিবেদনকারীর নাম:
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই মাস এক ভয়াল অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে গিয়ে বহু তরুণ প্রাণ হারান, যা পরবর্তীতে “জুলাই গণহত্যা” নামে পরিচিত হয়। সেই ঘটনার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন এ অভিযোগ উত্থাপন করে। সংগঠনের সভাপতি ও বাংলা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন:
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করলেও তার ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজনরা এখনও প্রভাব বিস্তার করছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।
বিটিভির উপ-মহাপরিচালক (বার্তা) সৈয়দা তাসমিনা আহমেদ ও মুখ্য বার্তা সম্পাদক মুন্সী ফরিদুজ্জামান বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
উল্টো ২০০৯–২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে কর্মরত থাকা মুন্সী ফরিদুজ্জামানকে এখন পুরো নিউজ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৭ জুলাই আন্দোলন দমনে মিথ্যা সংবাদ ও প্রপাগান্ডা প্রচারের অভিযোগে নির্বাহী প্রযোজক শামসুল আলমকে একটি বিশেষ কমিটির প্রধান করা হয়। অভিযোগ ওঠে যে, তিনি সরাসরি ছাত্র হত্যার ঘটনাকে ঢাকতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্মারক নম্বর: ১৫.৫৪.৩০২৫.০২৫.১৮.০০২.২২.১৫৭
বর্তমানে তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের সঙ্গে যুক্ত, যা জনমনে আরও সন্দেহ তৈরি করছে।
অলিদ তালুকদার বলেন, সাবেক দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহসিনের প্রভাবে তার স্ত্রী তাসমিনা আহমেদ ও মুন্সী ফরিদুজ্জামান এখনও প্রভাবশালী।
অভিযোগ রয়েছে, তারা বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় ও বিটিভির নানা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।
ফলে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পরও তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফরিদুজ্জামান ও তাসমিনার হাত ধরে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ভিডিওচিত্র এবং বার্তা সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের কাছে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল কতটা নিরাপদ—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণমাধ্যম বারবার ক্ষমতাসীনদের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে যেমন রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তেমনি ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত সরকারের সময়ও মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের “জুলাই গণহত্যা” সেই ধারাবাহিকতার ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত, যেখানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভূমিকা জনআস্থা ভেঙে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য হুমকি থেকে যাবে। জনগণের দাবি—অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ তদন্ত, শাস্তি, এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা।
মানববন্ধনে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের বক্তব্য — জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫)।
জুলাই গণহত্যার ঘটনাবলি ও ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট — (Le Monde, The New Yorker, The Guardian, ২০২৪ সালের প্রতিবেদন)।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ — (Reuters, The Daily Star, Wikipedia)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |