প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
কেরানীগঞ্জ: "ইসলামী আন্দোলনের হাত পাখায় ভোট দিলে আপনারা দুনিয়াতে শান্তি পাবেন এবং আখেরাতে মুক্তি পাবেন। কারণ, একমাত্র আমরাই দেশে প্রকৃত ইসলামী শাসন কায়েম করতে চাই।" শনিবার (২৪ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগনগর খেলার মাঠে ঢাকা-৩ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।
চরমোনাই পীর তার বক্তব্যে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর কড়া সমালোচনা করে বলেন, "বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, তারা কেউ ইসলামকে ক্ষমতায় নিতে চায় না। বিএনপি জোট কিংবা জামায়াত জোট—কারও লক্ষ্যই আমাদের সাথে মেলে না।" তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামী নীতি-আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারলেই দেশ গড়ার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হবে এবং স্বাধীনতার মূল চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
জনসমর্থন নিয়ে সমালোচকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেজাউল করীম বলেন, "অনেকেই আমাদের জনসমর্থন নেই বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। তাদেরকে ভোটের মাধ্যমে দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। প্রার্থী কে সেটি বড় কথা নয়, মার্কা বড়।" তিনি সব ভেদাভেদ ভুলে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাত পাখার বিজয় নিশ্চিত করতে নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন।
বাংলার রাজনৈতিক বিবর্তনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ—প্রতিটি বাঁকেই এ দেশের মানুষ শোষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ চেয়েছিল। ১৯৪৮ সালে জিন্নাহর ভাষণের পর থেকে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা দানা বেঁধেছিল, ১৯৯০ ও ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব সেই আকাঙ্খাকেই বেগবান করেছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে চরমোনাই পীর সেই 'ন্যায়বিচার' প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী শাসনকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে তুলে ধরলেন। ১৯০০ সালের সেই ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী চেতনার সমন্বয় আজ ২০২৬-এর নির্বাচনী মাঠে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ঢাকা-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী সুলতান আহমেদ খানের সভাপতিত্বে এ জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাসির আহমদ এবং শ্রমিক আন্দোলনের সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। জনসভাকে কেন্দ্র করে কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগম ঘটে।
সূত্র: মানবকণ্ঠ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রচার সেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |