প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজলেও আইনি লড়াইয়ে এখনো ভাগ্য ঝুলে আছে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর। কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা আপিল বিভাগে গড়িয়েছে। হাইকোর্টের রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন তিনি।
বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আগামী ২৬ জানুয়ারি এই আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। চেম্বার আদালতের কার্যতালিকার ১৬৬ নম্বর ক্রমিকে বিষয়টি শুনানির জন্য রাখা হয়েছে, যেখানে ফলাফলের ঘরে ২৬ জানুয়ারি তারিখটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। ঘটনার সূত্রপাত হয় হলফনামায় তথ্য গোপন করা নিয়ে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত: প্রাথমিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন।
এনসিপি প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ: হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ তোলেন যে, বিএনপির এই প্রার্থী তার হলফনামায় ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করেছেন। এই অভিযোগ নিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন।
ইসির সিদ্ধান্ত: গত ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন হাসনাত আব্দুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে।
হাইকোর্টের রায়: ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন মুন্সী। তবে গত বুধবার প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করে দিলে ইসির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের ব্রিটিশ শাসনামল থেকে শুরু করে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন পর্যন্ত প্রার্থীদের যোগ্যতা ও হলফনামার বিষয়টি বর্তমানের মতো এতোটা কঠোর ছিল না। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কিংবা ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনেও প্রার্থীর ব্যক্তিগত ঋণের চেয়ে রাজনৈতিক আদর্শ বেশি প্রাধান্য পেত।
তবে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) প্রণয়নের পর থেকে ক্রমান্বয়ে নির্বাচনী আইন কঠোর হতে শুরু করে। ২০০৮ সালের পর থেকে হলফনামায় তথ্য গোপন বা ঋণখেলাপির বিষয়টি প্রার্থিতা বাতিলের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে যুক্ত হয়। ২০২৪-২০২৫ সালের রাজনৈতিক সংস্কারের পর ২০২৬ সালের এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন এবং আদালত 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে। কুমিল্লা-৪ আসনের এই আইনি লড়াই প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ কতটা আপসহীন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২৬ জানুয়ারির রায় কেবল মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ভাগ্য নয়, বরং কুমিল্লা-৪ আসনের সামগ্রিক নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিতে পারে। যদি তার প্রার্থিতা ফিরে না আসে, তবে এই আসনে লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
১. বাংলাদেশ প্রতিদিন (আদালত ও নির্বাচন কমিশন বিট)। ২. সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ - কজ লিস্ট ও অনলাইন আর্কাইভ। ৩. বাংলাদেশের নির্বাচনী আইনের বিবর্তন ও ইতিহাস (১৯০০-২০২৬ সংকলন)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |