| বঙ্গাব্দ

ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার কেন্দ্রে সিসিটিভি বসাতে ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ ইসির |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-01-2026 ইং
  • 2486315 বার পঠিত
ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার কেন্দ্রে সিসিটিভি বসাতে ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ ইসির |
ছবির ক্যাপশন: সিসিটিভি বসাতে ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ ইসির |

নির্বাচনী নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ: ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার কেন্দ্রে বসছে সিসিটিভি, বরাদ্দ ৭২ কোটি টাকা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। দেশের ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতি কেন্দ্রে থাকছে অন্তত ৬টি ক্যামেরা

দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সভার সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের সবগুলোতেই সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজাদ মজুমদার বলেন, "সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছে যে, ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি বসাতে এই ৭২ কোটি (প্রায়) টাকা ব্যয় হবে। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কমপক্ষে ছয়টি করে সিসি ক্যামেরা থাকবে।"

গাজীপুর জেলায় শতভাগ প্রস্তুতি ও স্থানীয় উদ্যোগ

ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার বাইরে থাকা কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে গাজীপুরসহ বেশ কিছু জেলায় এই কার্যক্রম শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গাজীপুরে ৯৩৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া যেসব ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই (সারাদেশে ২৯৯টি), সেখানে সৌরবিদ্যুৎ বা জেনারেটরের মাধ্যমে ভোটের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে ভোট জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলের সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের। ১৯০০ সালের সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং পরবর্তী পাকিস্তানি আমলের নির্বাচনেও পেশিশক্তির প্রভাব ছিল দৃশ্যমান। ১৯৭০ ও ১৯৯১-এর নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লব ঘটলেও ১৯৯৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো নানা বিতর্কের জন্ম দেয়। বিশেষ করে 'রাতের ভোট' ও 'ডামি নির্বাচন' বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে খাদের কিনারে নিয়ে গিয়েছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সংস্কার যুগে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে অবাধ ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির এই ব্যবহার একটি মাইলফলক। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে সিসিটিভির মাধ্যমে প্রতিটি বুথ মনিটরিং করার উদ্যোগ মূলত ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনার এক চূড়ান্ত চেষ্টা।

বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৭১ কোটি ৯৮ লাখ টাকার এই বিশেষ বরাদ্দ এবং প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ছয়টি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, সরকার এবার কোনোভাবেই কারচুপির সুযোগ রাখতে চায় না। সরাসরি নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতিটি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণের এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা আগামী কয়েক দশকের বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।


সূত্র: যুগান্তর, বাসস (BSS), প্রথম আলো, এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর নিকার (NICAR) সভার ব্রিফিং।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency