| বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন নেজাম উদ্দীন | ২০২৬ নির্বাচন বিশ্লেষণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 18-01-2026 ইং
  • 2526149 বার পঠিত
চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন নেজাম উদ্দীন | ২০২৬ নির্বাচন বিশ্লেষণ
ছবির ক্যাপশন: নেজাম উদ্দীন


চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন নেজাম উদ্দীন: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বন্দর নগরীতে নতুন সমীকরণ

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম সবসময়ই ক্ষমতার পালাবদলের অন্যতম ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত চট্টগ্রামের রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। এই ধারায় চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীনের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া নির্বাচনী মাঠে নতুন এক উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।

আইনি লড়াই ও হাইকোর্টের আদেশ

রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) হাইকোর্টের ২০নং মেইন কোর্টে দীর্ঘ শুনানির পর মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে আদেশ দেন বিজ্ঞ আদালত। এর আগে গত ১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম রিটার্নিং কর্মকর্তা বিভিন্ন অজুহাতে নেজাম উদ্দীনের প্রার্থিতা বাতিল করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি গণতন্ত্রের জয়। আদালতে নেজাম উদ্দীনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রহমান এবং গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট খালিদ হোসেন। আদালতের এই আদেশের ফলে নেজাম উদ্দীন এখন এই আসনে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬ (চট্টগ্রামের রাজনীতি)

চট্টগ্রামের রাজনীতি সবসময়ই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে আছে।

  • ১৯০০ - ১৯৪৭ (মাস্টারদা ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন): বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সেই থেকেই চট্টগ্রাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন।

  • ১৯৭১ (স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ): একাত্তরের ২৬শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

  • ১৯৯১ - ২০২৪ (সংসদীয় গণতন্ত্র ও স্বৈরাচার পতন): ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সালের প্রতিটি নির্বাচনে চট্টগ্রাম ছিল আলোচনার শীর্ষে। বিশেষ করে ২০০৮ পরবর্তী দীর্ঘ আওয়ামী লীগ শাসনামলে এই আসনে ব্যাপক রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবে চট্টগ্রাম ছিল রাজপথের অগ্রসৈনিক।

  • ২০২৬ (ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন): ২০২৪-২৫ সালের সংস্কার পর্ব শেষে ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। তরুণ প্রজন্মের দল গণঅধিকার পরিষদ এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের দল বিএনপির মধ্যকার এই লড়াই চট্টগ্রামের ভোটারদের সামনে নতুন বিকল্প তৈরি করেছে।

বিশ্লেষণ ও আগামীর সম্ভাবনা

চট্টগ্রাম-১১ আসনটি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এই এলাকাতেই অবস্থিত। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ নেতার বিপক্ষে মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীনের মতো তরুণ নেতৃত্বের লড়াই প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে কেবল দলীয় প্রতীক নয়, বরং যোগ্য নেতৃত্বের প্রাধান্য পেতে যাচ্ছে। আদালত কর্তৃক প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া কেবল আইনি জয় নয়, বরং এটি নেজাম উদ্দীনের কর্মীদের জন্য একটি বড় মানসিক বিজয়।


সূত্র: ১. হাইকোর্টের সাম্প্রতিক আদেশ ও যুগান্তর অনলাইন প্রতিবেদন (১৮ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন রাজনৈতিক আর্কাইভ ও ত্রয়োদশ নির্বাচন ডায়েরি। ৩. গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency