| বঙ্গাব্দ

২০২৬ সংসদ নির্বাচন: জামায়াত জোট ছাড়ল ইসলামী আন্দোলন, ২৬৮ আসনে একক লড়াই

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-01-2026 ইং
  • 2563280 বার পঠিত
২০২৬ সংসদ নির্বাচন: জামায়াত জোট ছাড়ল ইসলামী আন্দোলন, ২৬৮ আসনে একক লড়াই
ছবির ক্যাপশন: ২০২৬ সংসদ নির্বাচন

ইসলামী রাজনীতির নতুন মেরুকরণ: জামায়াত জোট ছাড়ল চরমোনাই, ২৬৮ আসনে একক লড়াইয়ের ডাক

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট ও আদর্শিক লড়াইয়ের ইতিহাস শতাব্দীর প্রাচীন। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং ২০২৬-এর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—প্রতিটি মোড়েই ইসলামি ধারার দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির ইসলামি রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ফাটল দৃশ্যমান হলো। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়ে ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

পুরানা পল্টনের সেই ঘোষণা ও আদর্শিক সংঘাত

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান এক বিস্ফোরক ঘোষণা দেন। তিনি কেবল জোট ছাড়ার কথাই বলেননি, বরং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা অন্যান্য ইসলামি দলগুলোকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, "জামায়াত তাদের দীর্ঘদিনের ‘শরীয়াহ আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা’র নীতি থেকে বিচ্যুত হয়েছে। যারা আল্লাহর আইন থেকে সরে যায়, তাদের সঙ্গে আমাদের আদর্শিক ঐক্য সম্ভব নয়।" তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান যেভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের আলোচনা করছেন, তাতে এটি স্পষ্ট যে তারা একটি ‘সমঝোতার নির্বাচন’-এর দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে জুলাই বিপ্লবের পর সাধারণ মানুষের মনে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আশা জেগেছিল, তা ধূলিসাৎ হতে পারে।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনীতিতে ইসলামি দলগুলোর এই বিভক্তি নতুন নয়। ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ওলামায়ে কেরামরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেও ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের পর থেকে নানা মতভেদ তৈরি হয়। ১৯৪৭-এর দেশভাগ ও ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ইসলামি দলগুলোর অবস্থান ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্প্রবর্তনের মাধ্যমে এসব দল পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়।

২০০০-এর দশকে জামায়াত-বিএনপি চারদলীয় জোট সরকারের অংশ থাকলেও ২০২৪-এর পটপরিবর্তন সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে। ২০২৫ সাল জুড়ে চলা সংস্কার পরিক্রমার পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনটি এখন প্রতিটি দলের জন্য নিজেদের ‘একক শক্তি’ প্রমাণের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের এই ‘একলা চলো’ নীতি মূলত ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী আত্মপরিচয় রক্ষার আন্দোলনেরই এক আধুনিক সংস্করণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ভোটের মাঠের বর্তমান সমীকরণ

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ২৫৩টি আসনে ১০ দলীয় জোটের সমঝোতা ঘোষণা করেছিলেন। সেখানে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল। কিন্তু আজ শুক্রবার ইসলামী আন্দোলন সেই সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে ২৬৮ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেছে। দলটির মুখপাত্র সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের প্রার্থীদের কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না এবং তারা বিএনপি বা জাতীয় পার্টির সঙ্গেও কোনো আসন সমঝোতায় যাবেন না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের এককভাবে ২৬৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত জামায়াত-বিএনপি জোটের ভোটব্যাংকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসা কেন্দ্রিক ভোটগুলো এখন কোন দিকে যায়, সেটিই হবে দেখার বিষয়।

উপসংহার: ইনসাফের লড়াই না ক্ষমতার রাজনীতি?

গাজী আতাউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, "আমরা ক্ষমতার রাজনীতি করি না, আমাদের লক্ষ্য ইসলাম ও ইনসাফ কায়েম করা। আমাদের পথ মসৃণ না হলেও আমরা পিছু হটব না।" এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ কেবল আওয়ামী লীগ পরবর্তী শাসনের রূপরেখা নয়, বরং ইসলামি রাজনীতি কার হাতে থাকবে—সেই রায়ও দেবেন। ১৯০০ সালে যে লড়াই শুরু হয়েছিল শোষণের বিরুদ্ধে, ২০২৬ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে আদর্শ ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে।


তথ্যসূত্র: ১. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১০ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা প্রেস রিলিজ (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬)। ৩. গুগল নিউজ এনালাইসিস ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency