প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির এক নতুন বার্তা দিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলেও বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা হবে না। বরং সংখ্যায় কম নাগরিকদের তিনি নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় ঢাকার মগবাজারস্থ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটের নেতৃত্বে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় নিরাপত্তা এবং নির্বাচন পরবর্তী সহাবস্থান নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদলে ন্যাশনাল খ্রিষ্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি পার্থ দাস এবং বাংলাদেশ ইভানজেলিক্যাল রিভাইভাল চার্চের চেয়ারম্যান রেভারেন্ড বনি বাড়ৈ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে পার্থ দাস সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, "সৃষ্টিকর্তা যদি তাদের দেশ পরিচালনা করার সুযোগ দেন, তবে বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা হবে না—আমির মহোদয়ের এই আশ্বাস আমাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।" তিনি আরও জানান, জামায়াত আমির তাদের ‘সংখ্যালঘু’ পরিচয় না দিয়ে দেশের সমান অংশীদার হিসেবে ভ্রাতৃত্বের সংস্কৃতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। রেভারেন্ড বনি বাড়ৈ বলেন, জামায়াত আমিরের মতে—একটি দেশে সব ধর্মের নাগরিক না থাকলে তার সৌন্দর্য ও পূর্ণতা আসে না।
বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
১৯০০ - ১৯৭১: ১৯৪১ সালে মাওলানা মওদুদীর হাত ধরে জামায়াতে ইসলামীর যাত্রা শুরু হলেও তৎকালীন পাকিস্তান আমলে তাদের অবস্থান ছিল কট্টরপন্থী। তবে বর্তমান নেতৃত্ব আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির দিকে ঝুঁকেছে।
২০২৪ - ২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর জামায়াত তাদের রাজনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে। এবার নির্বাচনে তারা একজন হিন্দু প্রার্থীকেও মনোনয়ন দিয়েছে এবং প্রতিটি কমিটিতে সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। ২০২৫ সাল জুড়ে চলা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনায় তারা সকল ধর্মের মানুষের অধিকারের কথা বলেছে।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ২০২৬: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত এখন আর কেবল মুসলিম ভোটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাচ্ছে না। খ্রিষ্টান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই বৈঠক প্রমাণ করে যে, জামায়াত নিজেদের একটি ‘মডারেট’ ও ‘গণতান্ত্রিক’ শক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন করতে বদ্ধপরিকর।
মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিট জামায়াত আমিরের দেওয়া উত্তরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে তাদের এই মতবিনিময় অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে ক্ষমতার লড়াই, তা ২০২৬ সালে এসে অনেক বেশি কৌশলগত ও সম্প্রীতিমূলক হয়ে উঠেছে।
সূত্র: ১. জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ ও বাসস (BSS) নিউজ আপডেট, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬। ২. ন্যাশনাল খ্রিষ্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের প্রেস ব্রিফিং। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বিবর্তন আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |