প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী মাঠের উত্তাপ এখন তুঙ্গে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই জোটের চূড়ান্ত আসন বণ্টন ঘোষণা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩০০ আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ১৯০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছে। জোটের বাকি ১০টি শরিক দল তাদের নিজস্ব প্রতীকে ১১০টি আসনে নির্বাচন করবে। বড় শরিক হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৪০টি আসনে এবং শেষ মুহূর্তে জোটে যুক্ত হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে জোট গঠন ও আসন সমঝোতার সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের গঠন থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন পর্যন্ত এ দেশের মানুষ জোটবদ্ধ লড়াইয়ের সুফল দেখেছে। স্বাধীনতার পর ১৯৯১ সালে ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জোটবদ্ধ রাজনীতি ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিয়েছিল। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিরোধী জোটগুলো চরম চাপের মুখে ছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বাংলাদেশের রাজনীতি এক সম্পূর্ণ নতুন মোড় নিয়েছে। যেখানে বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখন নতুন নতুন জোট গঠন করে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণের চেষ্টা করছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় জোটের এই বড় ধরনের আসন সমঝোতা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
| দলের নাম | আসনের সংখ্যা |
| বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী | ১৯০ |
| ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ | ৪০ |
| জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) | ৩০ |
| বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস | ১৫ |
| খেলাফত মজলিস | ৭ |
| এলডিপি | ৭ |
| এবি পার্টি | ৩ |
| অন্যান্য ৫টি দল | ৮ |
নির্বাচনী জোটের ঘোষণার পাশাপাশি রাজপথে অন্যান্য দলের অবস্থানও বেশ সরগরম:
ডা. শফিকুর রহমান (জামায়াত আমির): "একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন।" উল্লেখ্য যে, তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকায় সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে গানম্যান নিয়োগ দিয়েছে।
নাহিদ ইসলাম (এনসিপি আহ্বায়ক): ১৩ জানুয়ারি তিনি ক্যারাভ্যান উদ্বোধনে বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট ব্যর্থ হলে দেশ আবার আগের স্বৈরাচারী ব্যবস্থায় ফিরে যাবে।”
ডা. মো. রফিকুল ইসলাম (বিএনপি নেতা): তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, একটি মহল পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চক্রান্ত করছে, তাই গণতন্ত্র এখনো চূড়ান্ত নিরাপদ নয়।
ডা. তাসনিম জারা (ঢাকা-৯): তিনি পুরোনো কাঠামো ভাঙতে এনসিপি থেকে সরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল’ প্রতীকে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী (হবিগঞ্জ-৪): আলোচিত এই বক্তা কোটি টাকার হলফনামা জমা দিয়ে নির্বাচনী মাঠে চমক সৃষ্টি করেছেন।
১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা ২০২৬ সালের নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে জামায়াতের ১৯০ আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তটি অন্যান্য জোটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী দুই দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে দেশের রাজনীতির আগামীর রূপরেখা।
১. জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ব্রিফিং (১২ জানুয়ারি ২০২৬)।
২. নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত খসড়া তালিকা।
৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন ও যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ (ঐতিহাসিক ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |