| বঙ্গাব্দ

ষড়যন্ত্র রুখতে প্রস্তুত সরকার: ইইউ পর্যবেক্ষকদের সাথে ড. ইউনূসের বৈঠক

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-01-2026 ইং
  • 2641395 বার পঠিত
ষড়যন্ত্র রুখতে প্রস্তুত সরকার: ইইউ পর্যবেক্ষকদের সাথে ড. ইউনূসের বৈঠক
ছবির ক্যাপশন: ড. ইউনূস

আপনার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও ঐতিহাসিক তথ্য যোগ করে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এর জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি নিচে দেওয়া হলো।


ষড়যন্ত্র রুখে অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করবে সরকার: ইইউ পর্যবেক্ষকদের ড. ইউনূস

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা বা ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, পতিত স্বৈরাচারের দোসররা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করতে পারে, তবে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

ইইউ পর্যবেক্ষকদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রোববার (১১ জানুয়ারি, ২০২৬) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ড. ইউনূস এসব কথা বলেন। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা ইইউ প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, "মানুষের মধ্যে বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের মাঝে এবার অভূতপূর্ব উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। আমরা একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" বৈঠকে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো আলোচনা না হলেও প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক বিবর্তন: ১৯০০ - ২০২৬ বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ আমলে সীমিত পরিসরে ভোটাধিকার শুরু হলেও ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম বড় সোপান। এরপর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল এক ঐতিহাসিক মাইলফলক, যা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করেছিল।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি বহু চড়াই-উতরাই পার করেছে। ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছরের একদলীয় শাসনে বাধাগ্রস্ত হয়। ২০২৪-এর বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র পরবর্তী গণতান্ত্রিক উত্তরণের চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা ক্ষমতার এককেন্দ্রিক চর্চা ভেঙে একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণের চেষ্টা করছে।

নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এবার বডি-ওর্ন ক্যামেরা (Body-worn camera) ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ড. ইউনূস ইইউ পর্যবেক্ষক দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই বিশ্ববাসী দেখুক এদেশের মানুষ কতটা গণতান্ত্রিক।"


সূত্র: ১. প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ও ফরেন সার্ভিস একাডেমি ব্রিফিং (১১ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (EU EOM) রিপোর্ট। ৩. বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভ ও রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency