ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: জাতীয় পার্টি ও এনডিএফ প্রার্থীদের প্রার্থিতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের অংশ), আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির একাংশ এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) প্রার্থীদের প্রার্থিতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আদেশ ও রিট প্রেক্ষাপট রোববার (১১ জানুয়ারি, ২০২৬) বিচারপতি রাজ্জাক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। ‘জুলাই ঐক্য’ নামক সংগঠনের পক্ষে সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বোরহান মাহমুদ) এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি এই রিটের প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওইদিন আদালত ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করে যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বা হারাননি, তাদের তথ্য রাষ্ট্রপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। আজ সেই তথ্য পর্যালোচনার পর আদালত এই রুল জারি করেন। রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করা এবং ফ্যাসিবাদের সহযোগী শক্তি হিসেবে এসব দলের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের নৈতিক ও আইনি অধিকার নেই।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬ বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০৫-১৯০৬) মুসলিম লীগের উত্থান থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন পর্যন্ত রাজনীতি ছিল অধিকার আদায়ের। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম সংসদ নির্বাচন। এরপর ১৯৮০-র দশকে সামরিক জান্তা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত ধরে জন্ম হয় জাতীয় পার্টির। সেই সময় থেকেই এই দলটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা বিতর্ক ও মেরুকরণ লক্ষ্য করা গেছে।
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে পতনের পর দীর্ঘ সময় জাতীয় পার্টি দেশের রাজনীতিতে ‘কিংমেকার’ হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় পার্টির ভূমিকা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০২৬) হতে যাচ্ছে একটি নতুন সংস্কারের মধ্য দিয়ে। এই প্রেক্ষাপটে ‘জুলাই ঐক্যের’ এই আইনি চ্যালেঞ্জ ২০২৬ সালের নির্বাচনকে এক অনন্য ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
নির্বাচন ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ২,৫৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ৭২৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে অনেকেই আপিল করে ফিরে এসেছেন। তবে হাইকোর্টের এই সাম্প্রতিক রুল জাতীয় পার্টি ও এনডিএফ প্রার্থীদের জন্য একটি বড় আইনি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
আগামী ১৫ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শুনানির পাশাপাশি হাইকোর্টের এই রুলের শুনানিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। যদি হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায়ে তাদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করে, তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।
সূত্র: ১. সুপ্রিম কোর্ট অফ বাংলাদেশ, হাইকোর্ট বিভাগ (রিট পিটিশন রেকর্ড ১১ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (EC) প্রার্থীদের তথ্য ও তফসিল ২০২৬। ৩. জুলাই ঐক্য ও এনডিএফ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন (২০২৫-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |