প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কৃত ও অব্যাহতি পাওয়া ২৩ জন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ থেকে তাদের ওপর আরোপিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হলো।
তালিকায় সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, খুলনা, গাজীপুর ও নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের সাবেক নেতারা রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন:
সিলেট ও মৌলভীবাজার: সিলেট বিয়ানীবাজারের মো. কছির আলী এবং মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ইসহাক আহমেদ চৌধুরী মামনুন।
ফেনী: জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন দুলাল এবং সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির মহসিন পাটোয়ারী।
খুলনা ও গাজীপুর: খুলনা মহানগর বিএনপির মাহাবুব হাসান পিয়ারু এবং কালিয়াকৈর পৌর বিএনপির মো. হারিজ উজ্জামান।
মহিলা দল: হবিগঞ্জের আলফা বেগম এবং মৌলভীবাজারের রাহেনা বেগমসহ আরও বেশ কয়েকজন নেত্রী তাদের সদস্যপদ ফিরে পেয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি বড় লড়াইয়ের আগে দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান এবং পুনরায় ঐক্যের একটি প্রক্রিয়া কাজ করে।
১৯০০ - ১৯৪৭: ব্রিটিশ আমলের বিভক্তি ও ঐক্য: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং পরবর্তী সময়ে মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের মধ্যে বহুবার ভাঙন ও পুনঃএকত্রীকরণ হয়েছে। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের সময় বাঙালির রাজনৈতিক ঐক্যই পাকিস্তান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করেছিল।
১৯৭১ ও মুক্তিযুদ্ধ: যুদ্ধের সময় নানা মতাদর্শের মানুষ জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানীর অধীনে এবং প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। তখন ছোটখাটো মতভেদ ভুলে দেশ স্বাধীন করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
বিএনপির গঠন ও বিবর্তন (১৯৭৮-২০২৬): ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির জন্ম হয় 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ' এবং 'ঐক্য'র স্লোগান নিয়ে। গত ৪৭ বছরে বিএনপি বহু চড়াই-উৎরাই পার করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তৃণমূল পর্যায়ে কোনো বিভেদ না রাখা।
২০২৬-এর নির্বাচনী রাজনীতি: বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন 'নতুন বাংলাদেশ' গড়ার রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। আজকের ২৩ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার প্রমাণ করে যে, বিএনপি আগামী নির্বাচনে একটি সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী দল হিসেবে মাঠে নামতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে এই ধরণের সিদ্ধান্ত তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে। ১৯০০ সাল থেকে চলা বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে দেখা গেছে, যখনই কোনো বৃহৎ দল অভ্যন্তরীণ বিভেদ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখনই তারা জয়ী হয়েছে। ২০২৬ সালে এসে বিএনপির এই কৌশলকে 'নির্বাচনী মাস্টারস্ট্রোক' হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় (নয়াপল্টন), অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি (৬ জানুয়ারি ২০২৬) এবং বিডিএস ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির বিশেষ রাজনৈতিক মনিটরিং সেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |