প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সংস্কারের দাবি জোরালো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নাগরিক ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে দলটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নেন। সাক্ষাৎকালে তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বৈঠক শেষে তারেক রহমান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সকল রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাঙালির রাজনৈতিক অধিকারের লড়াইয়ের ইতিহাস শত বছরের পুরোনো। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে আজকের ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনাই এদেশের মানচিত্র নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে।
১৯০০ - ১৯৫২: গত শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ এবং পরবর্তীতে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে স্বায়ত্তশাসনের যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তার প্রথম বড় আঘাত আসে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সালাম, বরকতদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় ভাষার অধিকার।
১৯৭১: স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ— "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"— যা ছিল মূলত একটি পরাধীন জাতির মুক্তির সনদ। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর আমরা পাই সার্বভৌম বাংলাদেশ।
১৯৭৫ - ১৯৯০: সামরিক শাসন ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম: ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন এবং পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদের শাসনামলে দেশ দীর্ঘকাল সামরিক বলয়ে ছিল। অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের মুখে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।
১৯৯১ - ২০২৪: দুই নেত্রীর পর্যায়ক্রমিক শাসন: দীর্ঘ সময় ধরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনা করেছে। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হয়।
২০২৫ - ২০২৬: রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনের হাতছানি: ২০২৫ সাল জুড়ে চলেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কাজ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন। ১১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ নির্বাচন কমিশন নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে, যার মাধ্যমে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯৭১): "তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।"
জিয়াউর রহমান (১৯৭৭): "ব্যক্তিগত বা দলগত স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থ অনেক বড়।"
তারেক রহমান (জানুয়ারি ২০২৬): ৫ জানুয়ারির বৈঠকে তিনি বলেন, "সবাইকে সঙ্গে নিয়েই একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। দেশ গড়ার কাজে আপনারা একাকী নন।"
মাহমুদুর রহমান মান্না (জানুয়ারি ২০২৬): বৈঠকের পর তিনি জানান, "চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে স্বচ্ছ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই এবং আমরা জোটবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।"
২০২৬ সালের এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য এক মহা-পরীক্ষা। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যে কাজ শুরু হয়েছে, তার পূর্ণতা পাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। তারেক রহমানের সঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্নার এই সাক্ষাৎ কেবল একটি সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং এটি আগামী দিনের নির্বাচনী জোট বা আসন সমঝোতার একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে অধিকার আদায়ের আন্দোলন, তার শতবর্ষী ফসল হলো আজকের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা। ২০২৬ সালের নির্বাচন যদি সফল হয়, তবেই এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের চূড়ান্ত সুফল ঘরে তোলা সম্ভব হবে।
সূত্র: যুগান্তর, বাসস, বিডি নিউজ ২৪ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও নির্বাচন কমিশন (২০২৬) সংক্রান্ত সরকারি নথি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |