প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের চেতনা থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব—সবই ছিল জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) সারা দেশের মতো দিনাজপুরের ৬টি আসনেও শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাই। বিশেষ করে দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবর্তে নতুন প্রার্থী হিসেবে এ কে এম কামরুজ্জামানের অন্তর্ভুক্তি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
দিনাজপুরের রাজনীতি ১৯০০ সালের গোড়ার দিক থেকেই ঐতিহ্যবাহী। ১৯৩৭-এর নির্বাচনে যেমন এ অঞ্চলের মানুষের সরব উপস্থিতি ছিল, তেমনি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে দিনাজপুর বিএনপির দুর্গে পরিণত হয়। বেগম খালেদা জিয়া পাঁচবার এই অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়ে উত্তরবঙ্গের মানুষের মনে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে (বাস্তব ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) দিনাজপুরের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়। সেই শূন্যতা পূরণে ২০২৬-এর এই নির্বাচনে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় দিনাজপুরের আসনগুলোতে দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) দিনাজপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলার ৬টি আসনে দাখিলকৃত ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪২ জন প্রার্থীর নাম বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দিনাজপুর-৫: কামরুজ্জামানের পথচলা দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী হিসেবে এ কে এম কামরুজ্জামানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি। অন্যদিকে, আমজনতার দলের মো. ইব্রাহীম আলী মন্ডল ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
অন্যান্য আসনের চিত্র:
দিনাজপুর-৬: স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটার তালিকায় গড়মিল থাকায় মো. শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ ও মো. আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখানে বিএনপির আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনসহ ৬ জন বৈধ হিসেবে লড়ছেন।
দিনাজপুর-১ ও ২: ১ নম্বর আসনে বিএনপির মো. মনজুরুল ইসলাম এবং ২ নম্বর আসনে মো. সাদিক রিয়াজসহ ৯ জন প্রার্থীই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দিনাজপুর-৩ (সদর): সিপিবি প্রার্থী অমৃত কুমার রায়ের চিঠিতে ত্রুটি থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ আসনে বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমসহ ৮ জন চূড়ান্ত লড়াইয়ে থাকছেন।
একই দিনে (৪ জানুয়ারি ২০২৬) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক ছাদের নিচে মিলিত হয়েছিলেন দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ব্যবসায়ীরা। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে স্কয়ার গ্রুপের তপন চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের মোস্তফা কামাল এবং প্রাণ গ্রুপের আহসান খান চৌধুরীসহ শীর্ষ করপোরেট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, "জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু কোনো বিভাজন নয়।"
এছাড়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সাথে বৈঠকে তারেক রহমান ২০২৬-এর নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত যতবার জাতি বিভাজিত হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে।
২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে ২০২৬ সালের এই নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বড় পরীক্ষা। ঢাকা-১২ আসনে আমজনতার দলের ‘গরিব প্রার্থী’ তারেক রহমান কিংবা ফেনী ও দিনাজপুরের হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই—সবই জানান দিচ্ছে যে বাংলাদেশের মানুষ এখন আর কেবল দল দেখে নয়, হলফনামার তথ্য আর সততা দেখে নেতা নির্বাচন করতে চায়।
সূত্র: ১. দিনাজপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি (৪ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ও রাজনৈতিক আর্কাইভ প্রতিবেদন (২০২৪-২০২৬)। ৩. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বিএনপির প্রেস উইং রিপোর্ট (জানুয়ারি ২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |