বই সিন্ডিকেটে জিম্মি ১ কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ: ১৯৫০-২০২৫ শিক্ষাক্ষেত্রে শোষণের নতুন রূপ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নতুন শিক্ষাবর্ষ ২০২৬ শুরু হতে বাকি আর মাত্র তিন দিন। অথচ মাধ্যমিক স্তরের সাড়ে ১১ কোটির বেশি পাঠ্যবই এখনো ছাপাই হয়নি। ফলে ১ জানুয়ারি নতুন বইয়ের ঘ্রাণ থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে মাধ্যমিকের ১ কোটির বেশি শিক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এক প্রভাবশালী সদস্যের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণেই এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বই হাতে পেতে অন্তত মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে শিক্ষার্থীদের।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৩০ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর পরিকল্পনা থাকলেও মাধ্যমিকের ২১ কোটি বইয়ের মধ্যে বড় একটি অংশ এখনো প্রেসেই যায়নি। এর মূলে রয়েছে এনসিটিবির সদস্য ড. রিয়াদ চৌধুরী, ঊর্ধ্বতন ভান্ডার কর্মকর্তা আসাফ-উদ-দৌলা এবং সচিব দপ্তরের এক কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, এই চক্রটি পাঁচটি পেপার মিলের সঙ্গে আঁতাত করে টনপ্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা কমিশন বাণিজ্যে লিপ্ত। শুধু মাধ্যমিক স্তরেই তারা প্রায় ৪৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পছন্দের মিল থেকে কাগজ না কিনলে ইন্সপেকশন এজেন্ট দিয়ে তা বাতিল করার ভয় দেখিয়ে প্রেস মালিকদের জিম্মি করা হচ্ছে।
বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াই ১৯৫০-এর দশকেই শুরু হয়েছিল শিক্ষা ও ভাষার অধিকারকে কেন্দ্র করে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন ছিল আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। পরবর্তীতে ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন আইয়ুব খানের গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিবাদকে ত্বরান্বিত করে। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের পর একটি শিক্ষিত ও বৈষম্যহীন জাতি গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তবে ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে এবং নব্বইয়ের দশকের পর বিভিন্ন সরকারের আমলে শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির কালো থাবা বারবার হানা দিয়েছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের আমলে এনসিটিবি হয়ে উঠেছিল দুর্নীতির আখড়া। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর যখন জাতি একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, তখন ২০২৫ সালের শেষে এসে এই ‘বই সিন্ডিকেট’ প্রমাণ করে যে, স্বৈরাচারের দোসররা এখনও বহাল তবিয়তে। ১৯৫০-এর শোষণের স্মৃতি আজ ২০২৫-এ এসে পাঠ্যবই সংকটের মাধ্যমে নতুন করে ফিরে এসেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ১৭ বছর পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, নতুন প্রধান বিচারপতির শপথ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরকার মেরুকরণ যখন দেশজুড়ে আলোচনার তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই ১ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বই না পৌঁছানোর খবরটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ থেকে শুরু হওয়া শোষণের রাজনীতি আজ প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের রূপ নিয়েছে। এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীর বা রিয়াদ চৌধুরী সিন্ডিকেটের মতো চরিত্রগুলো শিক্ষা খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, অষ্টম শ্রেণিতে ৪ কোটি ২ লাখ বইয়ের বিপরীতে ছাপা হয়েছে মাত্র সাড় ৪ শতাংশ বই। সপ্তম শ্রেণিতেও অবস্থা করুণ। দরপত্র বাতিল ও পুনঃদরপত্র আহ্বানের দীর্ঘসূত্রতায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। অথচ আগের দরপত্রেই প্রাথমিক স্তরের ১৮ কোটি বই ছাপানো প্রায় শেষ। এই দ্বিমুখী নীতিই প্রমাণ করে যে, বিশেষ সুবিধা নিতেই মাধ্যমিকের বই আটকে রাখা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ১. এনসিটিবির অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন ও বিতরণ শাখা (ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. কালবেলা ও সমসাময়িক জাতীয় সংবাদপত্রের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। ৩. বাংলাদেশের শিক্ষা আন্দোলনের ইতিহাস (১৯৫০-২০২৫) ও গুগল নিউজ আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |